নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা দিতে ইতিমধ্যেই ই-শ্রম পোর্টালে তাঁদের নথিভুক্তির কাজ শুরু করেছে কেন্দ্র। এবার বিভিন্ন রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের আগে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের পেনশন দেওয়ার তৎপরতা শুরু করল মোদি সরকার। অনলাইন ডেলিভারি কর্মী (গিগ কর্মচারী), গৃহপরিচারিকাদের মতো একাধিক ক্ষেত্রের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর থেকে প্রতি মাসে সুনিশ্চিত পেনশন পাবেন। এই লক্ষ্যে ‘ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিম’ (ইউপিএস) চালুর পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে প্রধানত অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের কথা মাথায় রেখে এই পেনশন প্রকল্প চালু করা হলেও পরবর্তী ক্ষেত্রে এটি সাধারণ মানুষের জন্যও খুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, স্বরোজগেরে এবং বেতনভুক কর্মচারীরাও এর পরিষেবা পাবেন আগামী দিনে। এই সংক্রান্ত যাবতীয় দিশানির্দেশ তৈরির ভার ইতিমধ্যেই শ্রমমন্ত্রকের আওতাধীন কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) উপর ছেড়েছে কেন্দ্র।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ইপিএফওর নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই একটি পেনশন প্রকল্প রয়েছে। তা হল এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (ইপিএস), ১৯৯৫। পাশাপাশি আমজনতার জন্য রয়েছে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমের (এনপিএস) সুবিধাও। ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিম নিয়ে মোদি সরকারের তৎপরতা শুরু হওয়ার পরই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এবার চালু পেনশন প্রকল্পগুলি ধাপে ধাপে বন্ধ করে দিতে পারে কেন্দ্র? সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে শ্রমমন্ত্রক বুধবার রাত পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে মন্ত্রকের শীর্ষতম সূত্রে ইপিএস গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, কোনও চালু পেনশন প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিম প্রবীণ বয়সের আর্থিক স্বনির্ভরশীলতার একটি নবতম সংযোজন হতে চলেছে মাত্র। যার একটি বড় সুবিধা পাবেন অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মচারীরা। প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবিত ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিম নিয়ে ইপিএফও যে পরিকল্পনা করেছে, তা অনুসারে এই প্রকল্পে সরকারি স্তরে কোনওরকম ‘কন্ট্রিবিউট’ করা হবে না। স্কিমের নিয়মমতো এখানে ভবিষ্যতের জন্য টাকা সঞ্চয় করে রাখতে পারবেন গ্রাহকরা।
এনপিএস প্রকল্পও আদতে একটি ঐচ্ছিক কর্মসূচি। কিন্তু এতে অসংগঠিত ক্ষেত্রের জন্য কোনও পরিষেবা নেই। অন্যদিকে, কর্মী পিএফের পেনশন প্রকল্প ইপিএসের সুবিধা পান শুধুমাত্র বেসরকারি সংগঠিত সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই। অসংগঠিত শ্রমিকরা অবশ্য ‘অটল পেনশন যোজনা’য় (এপিওয়াই) নথিভুক্ত হতে পারেন। যদিও তা অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ লাভজনক নয় বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি। মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, ইউপিএস প্রকল্পই দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের
জন্য অন্যতম সেরা একটি পেনশন কর্মসূচি হতে চলেছে। বুধবার পর্যন্ত ই-শ্রম পোর্টালে নথিভুক্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি।
এনপিএস প্রকল্পও আদতে একটি ঐচ্ছিক কর্মসূচি। কিন্তু এতে অসংগঠিত ক্ষেত্রের জন্য কোনও পরিষেবা নেই। অন্যদিকে, কর্মী পিএফের পেনশন প্রকল্প ইপিএসের সুবিধা পান শুধুমাত্র বেসরকারি সংগঠিত সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই। অসংগঠিত শ্রমিকরা অবশ্য ‘অটল পেনশন যোজনা’য় (এপিওয়াই) নথিভুক্ত হতে পারেন। যদিও তা অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ লাভজনক নয় বলেই বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি। মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, ইউপিএস প্রকল্পই দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের
জন্য অন্যতম সেরা একটি পেনশন কর্মসূচি হতে চলেছে। বুধবার পর্যন্ত ই-শ্রম পোর্টালে নথিভুক্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি।



