নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্লান্তি, নাকি আত্মতুষ্টি? মাত্র চার বছর আগে আত্মপ্রকাশ ঘটা ক্লাবের কাছে সেমি-ফাইনালে হারল ইস্ট বেঙ্গল! এই ডায়মন্ডহারবারকেই গ্রুপ পর্বে পাঁচ গোলের মালা পরিয়েছিল মোহন বাগান। তাই প্রিয় দলের হার কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না লাল-হলুদ সমর্থকরা। মাঠ ফেরত লাল-হলুদ জনতার গলায় শুধুই হতাশা। কোচ অস্কার ব্রুজোঁও রীতিমতো ক্ষুব্ধ। তবে ফুটবলারদের উপর নয়। তিনি কাঠগড়ায় তুললেন রেফারি হরিশ কুণ্ডুকে। তাঁর কথায়, ‘প্রতিবার এই রেফারি আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিনও তারই খেসারত দিতে হল। প্রথম গোলের ক্ষেত্রে অহেতুক ফাউলের বাঁশি বাজানো হয়। আর দ্বিতীয় গোলটির ক্ষেত্রে লুকা মাচেনের হ্যান্ডবল হলেও তিনি বাঁশি বাজাননি!’
বুধবার প্রতিপক্ষের গোলের উদ্দেশে ১৬টি শট নিয়েছেন দিয়ামানতাকোসরা। তার মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে। পাশাপাশি ১৮টি কর্নারের সুযোগও আসে। তা সত্ত্বেও হেরে মাঠ ছাড়াটা সত্যিই লজ্জার। কোচ অস্কারও তা মানলেন। তাঁর মন্তব্য, ‘প্রতিপক্ষ ৩-৪টি সুযোগ পেয়েছে। তার মধ্যে দু’টি গোল করেছে। আর আমরা একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি।’ দলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, ‘আজকের পারফরম্যান্স সত্যিই খারাপ ছিল। পাশাপাশি চান্স ফ্যাক্টর কাজ করেনি। একইসঙ্গে খারাপ রেফারিং তো রয়েইছে। ওদের দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে পরিষ্কার হ্যান্ডবল ছিল। অথচ আমরা নিশ্চিত পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হলাম।’
পক্ষান্তরে, ইস্ট বেঙ্গলকে হারিয়ে ডায়মন্ডহারবারের কোচ কিবু ভিকুনার বক্তব্য, ‘এটাই ফুটবল। ম্যাচের আগে অনেকে আমাদের ধর্তব্যের মধ্যেই রাখেননি। সেটাই হয়তো ছেলেদের ভালো ফুটবল খেলতে উদ্দীপ্ত করেছে। মোহন বাগানের কাছে ১-৫ গোলে হারের পর আমাদের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেখান থেকে আমরা পরপর আইএসএলের দু’টি ক্লাবকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছি। তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি। আজকের রাতটা উপভোগ করতে চাই। তারপর নর্থইস্ট ম্যাচ নিয়ে চিন্তাভাবনা করব।’