নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফাতোরদার নেহরু স্টেডিয়াম থেকে মিনিট দশের হাঁটা পথ। ডন বস্কো কলেজের ফুটবল মাঠ। ছবির মতো সুন্দর এই গ্রাউন্ডই এখন ইস্ট বেঙ্গলের ঘাঁটি। গ্রুপ পর্বে সালভাদোরে প্র্যাকটিস করত লাল-হলুদ ব্রিগেড। কিন্তু সেখানে এখন স্পোর্টস চলায়, অনুশীলনের জন্য ডন বস্কো ফুটবল মাঠকেই বেছে নিয়েছেন হেড কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। সুপার কাপ সেমি-ফাইনালে পাঞ্জাব বধের মহড়ায় রবিবার নেমে পড়লেন মহেশ-বিপিনরা।
পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আগেই গোয়ায় পৌঁছে গিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। শুক্রবার প্র্যাকটিস ম্যাচে ডেম্পোর বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে ফুটবলারদের। বিশেষ করে স্ট্রাইকার হিরোশি ও হামিদের গোল স্বস্তি দিয়েছে স্প্যানিশ কোচকে। শনিবার প্লেয়ারদের ছুটি দিয়েছিলেন ব্রুজোঁ। রবিবার ডন বস্কোর মাঠে মূলত পাসিং ফুটবলে জোর দিতে দেখা গেল স্প্যানিশ হেডস্যারকে। মিগুয়েল ও রশিদ চলতি মরশুমে দারুণ ছন্দে। চোট সারিয়ে সাউল ক্রেসপোও ক্রমশ ম্যাচফিট হয়ে উঠছেন। সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে এই ত্রয়ী দারুণ নজর কাড়লেন। তাঁদের ডিফেন্স চেরা পাস থেকে একাধিকবার জাল কাঁপাতে দেখা গেল হিরোশি-হামিদদের। এছাড়া উইং প্লে’তেও বেশ চনমনে দেখাল বিপিন সিং, নাওরেম মহেশকে। রবিবার আবার হামিদের ৩১তম জন্মদিন ছিল। তাই নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই মাঠ ছাড়লেন তিনি। তবে বাকিরা পুরোদমে গা ঘামালেন। সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে রক্ষণ সংগঠনেও নজর দিলেন কোচ। সিবলের সঙ্গে আনোয়ারের জুটি চলতি মরশুমে সুপার হিট। তবে উইং ব্যাকে কিছুটা হলেও সমস্যা রয়েছে। মাঝেমধ্যেই রাকিপ ও জয় গুপ্তার ভুল-ত্রুটি শুধরে দিচ্ছিলেন কোচ। পাশাপাশি অনুশীলন শেষে সাউল-মহেশ-শৌভিকের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা সারতে দেখা গেল স্প্যানিশ কোচকে। ডন বস্কো মাঠ সংলগ্ন এক টার্ফে কয়েকজন খুদে ফুটবল খেলছিল। প্র্যাকটিস শেষে তাদের অটোগ্রাফও দিলেন সাউল-হিরোশিরা। কোচ ব্রুজোঁও কচিকাঁচাদের সঙ্গে গল্পে মাতলেন। সবমিলিয়ে লাল-হলুদ শিবিরে এখন ফুরফুরে হাওয়া।