নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কে হবেন মণ্ডল সভাপতি? ঠিক হয় ভোটাভুটিতে। দলীয় কর্মীদের সমর্থন যাঁর দিকে বেশি, তিনিই বসেন মণ্ডল সভাপতির পদে। এটাই বিজেপির সাংগঠনিক রীতিনীতি। কিন্তু দলের নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলায় উলট পুরাণ। নির্বাচিত হচ্ছেন একজন। পদ পাচ্ছেন অন্যজন। কিন্তু কেন এমন হবে? বিজেপির কর্মীদের একাংশের অভিযোগ—সবটাই টাকা খেলা! ‘ফেলো কড়ি, নাও পদ’ নীতিতে চলছে দল। বুধবার এমন অভিযোগ ঘিরে তুলকালাম কাণ্ডেরও সাক্ষী থাকল সাংগঠনিক জেলার প্রধান কার্যালয়। দেওয়ালে টাঙানো তালিকা ছেঁড়া থেকে শুরু চেয়ার ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনাও ঘটল। জেলা নেতৃত্ব বিষয়টিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী রীতিমত হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছে। বেনিয়মের ভুরভিুরি অভিযোগ তুলেছে তারা।
Advertisement
সম্প্রতি বিজেপির বিভিন্ন বিধানসভায় মণ্ডল কমিটি তৈরির ভোটাভুটি হয়। সভাপতি কে হবেন, তার জন্য কর্মী ও সদস্যদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু দেখা যায়, কর্মীদের পছন্দের তালিকায় তৃতীয় অথবা চতুর্থ ব্যক্তিরাই মণ্ডল সভাপতির পদ পেয়েছেন। হাতে গরম উদাহরণ গাংনাপুরের ৩ এবং ৪ নম্বর মণ্ডল। অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটিতে তৃতীয় ব্যক্তি মণ্ডল সভাপতির তালিকায়। তা প্রকাশ পেতেই বেজায় চটেছেন নিচুতলার বিজেপি কর্মীরা। রাখঢাক না করেই জেলার পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে পরাজিত ব্যক্তিদের পদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, স্বপন ঘোষ সহ জেলার আরও এক নেতা পদ ‘বিক্রি’ করেছেন।
বুধবার বিষয়টি নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়। গাংনাপুর ৪ নম্বর মণ্ডলের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুদীপ্তকুমার মন্ডল বলেন, ‘ভোটাভুটিতে যিনি জিতেছেন তাঁকেই মণ্ডল সভাপতি করতে হবে। অথচ, পরাজিত ব্যক্তির থেকে টাকা নিয়ে পদ বিক্রি করে দিয়েছেন জেলার কিছু নেতা। দলে গণতন্ত্র নেই। জেলা নেতৃত্ব নিজেদের মর্জিমাফিক পদ বিলি করছেন।’ একই সুরে তিন নম্বর মণ্ডলের নেতা শুভঙ্কর বিশ্বাস বলেন, ‘রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার ৬টি মণ্ডলের অধিকাংশতেই এই গন্ডগোল। টাকার বিনিময়ে নিজের কাছের লোকদের পদ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি নিজেদের ইচ্ছে মতো দল চলবে, তাহলে ভোটাভুটি কেন হল। আমাদের দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন করব।’
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত জেলা নেতৃত্ব তথা প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক স্বপন ঘোষ বলেন, ‘রাজ্য যাঁদের পদে বসিয়েছে আমরা তাঁদেরকে মান্যতা দিচ্ছি। কোনও নির্বাচন হয়নি। কর্মীদের মতামত চাওয়া হয়েছিল। হতে পারে সিদ্ধান্ত তাদের মনের মত হয়নি। এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই। কোনও জায়গায় মণ্ডল সভাপতির নাম চূড়ান্ত হয়নি। আমরা রাজ্যকে বলে যতটা সম্ভব সমস্যার সমাধান করব।’
স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির গৃহযুদ্ধকে পুরোদস্তুর রাজনীতির ময়দানে কাজে লাগাতে তৎপর তৃণমূল। দলের রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক মুকুটমনি অধিকারী বলেন, ‘আপাদমস্তক বিজেপি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দল। ওদের দলের পদ থেকে ভোটের টিকিট সবই বিক্রি হয়। আমরা দেখেছি, গত লোকসভা ভোটেও টিকিট বিক্রি হয়েছে কোটি কোটি টাকায়। সেখানে মণ্ডল সভাপতির পদও যে বিক্রি হবে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। সাধারণ মানুষের কথা ওরা ভাবে না। যার টাকা আছে, তার কথাই ভাবে বিজেপি। দেশ রসাতলে যাচ্ছে। বিজেপির নেতারা টাকা রোজগার করছেন। সাধারণ মানুষ তাই বিজেপিকে বিশ্বাস করে না।’
স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির গৃহযুদ্ধকে পুরোদস্তুর রাজনীতির ময়দানে কাজে লাগাতে তৎপর তৃণমূল। দলের রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক মুকুটমনি অধিকারী বলেন, ‘আপাদমস্তক বিজেপি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দল। ওদের দলের পদ থেকে ভোটের টিকিট সবই বিক্রি হয়। আমরা দেখেছি, গত লোকসভা ভোটেও টিকিট বিক্রি হয়েছে কোটি কোটি টাকায়। সেখানে মণ্ডল সভাপতির পদও যে বিক্রি হবে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। সাধারণ মানুষের কথা ওরা ভাবে না। যার টাকা আছে, তার কথাই ভাবে বিজেপি। দেশ রসাতলে যাচ্ছে। বিজেপির নেতারা টাকা রোজগার করছেন। সাধারণ মানুষ তাই বিজেপিকে বিশ্বাস করে না।’



