Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অর্থ কমিশনের টাকা খরচে রাজ্যে দ্বিতীয় নদীয়া

অর্থ কমিশনের টাকা খরচে রাজ্যে দ্বিতীয় নদীয়া
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসন ব্যস্ত আবাসের কাজে। পঞ্চায়েত থেকে জেলাশাসক অফিস, সকলস্তরেই প্রশাসনের আধিকারিকদের নামানো হয় সমীক্ষার কাজে। স্বাভাবিকভাবেই জেলার অন্যান্য কাজে কিছুটা হলেও লাগাম পড়ার কথা। কিন্তু, সেই দিক থেকে ব্যতিক্রম নদীয়া জেলা। ‘বাংলার বাড়ি’ নিয়ে কাজের মধ্যেও থমকে থাকেনি উন্নয়নের কাজ। যার জেরেই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় উন্নয়নের কাজে রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নদীয়া জেলা। গত ২১ নভেম্বরের রাজ্যভিত্তিক রিপোর্ট বলছে, নদীয়া জেলা এখনও পর্যন্ত ৬২.১৬ শতাংশ টাকা খরচ করেছে। ৭১.২২ শতাংশ টাকা খরচ করে প্রথম স্থানে রয়েছে কোচবিহার জেলা। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচের দৌড়ে প্রথম থেকেই এগিয়ে থাকায় খুশি প্রশাসনের আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লকস্তরে আগাম টেন্ডার করে রাখার কারণেই এই সাফল্য এসেছে। যার ফলে টাকা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু গিয়েছে। 
Advertisement
নদীয়ার জেলাশাসক অরুণ প্রসাদ বলেন, ‘আবাসের কাজ করার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কাজও সমানতালে চলেছে। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে নদীয়া জেলায়। আগামী দিনেও এভাবে কাজ করা হবে।’
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২০২৪-’২৫ অর্থ বর্ষের প্রথম দফার ১০৬ কোটি টাকা পেয়েছে নদীয়া জেলা। সেই সঙ্গে বিগত বছরের আরও ২০০ কোটি রয়েছে। সবমিলিয়ে ৩০৬ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদে ৩০৬ কোটি টাকা পেয়েছে নদীয়া জেলা। সেই টাকার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৬২.১৬ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ, ১৯১ কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়েছে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহট্ট-২ ব্লকে ৭৭.৯২ শতাংশ টাকা, কালীগঞ্জ ব্লকে ৭৫.৫২ শতাংশ টাকা, চাকদহ ব্লকে ৭৫.২৬ শতাংশ টাকা, রানাঘাট-২ ব্লকে ৭৪.৮২ শতাংশ টাকা, চাপড়া ব্লকে ৭২.৯৮ শতাংশ টাকা, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকে ৭২.১১ শতাংশ টাকা, রানাঘাট-১ ব্লকে ৭০.৯৯ শতাংশ টাকা, করিমপুর-২ ব্লকে ৬৯.৯৫ শতাংশ টাকা, নবদ্বীপ ব্লকে ৬৭.৯০ শতাংশ টাকা, নাকাশিপাড়া ব্লকে ৬৬.৫০ শতাংশ টাকা, হাঁসখালি ব্লকে ৬৫.৮৫ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। 
বর্তমানে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সমীক্ষার কাজে ব্যস্ততা রয়েছে প্রশাসনের অফিসগুলিতে। সিংহভাগ দপ্তরের আধিকারিকদের নামানো হয়েছে সমীক্ষার কাজে। এমনকী পঞ্চায়েতস্তরেও আধিকারিকদের আবাসের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই উন্নয়নমূলক কাজের গতি রাজ্যজুড়েই শ্লথ হয়েছে। তার মধ্যে নদীয়া জেলায় অর্থ কমিশনের কাজে খরচের পরিসংখ্যান কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে জেলা প্রশাসনকে। 
জানা গিয়েছে, ২১ নভেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচের নিরিখে রাজ্যের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা। সেই জেলায় ৫৭.২৭ শতাংশ টাকা খরচ করা গিয়েছে। চতুর্থ স্থানে থাকা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় টাকা খরচ হয়েছে ৫৭.১৪ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে থাকা আলিপুরদুয়ার জেলায় ৫৬.৯৮ শতাংশ টাকা টাকা খরচ হয়েছে‌।
সম্পর্কিত সংবাদ