Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অর্থ কমিশনের টাকা খরচে ব্যর্থ শিল্পাঞ্চলের বহু পঞ্চায়েত

অর্থ কমিশনের টাকা খরচে ব্যর্থ শিল্পাঞ্চলের বহু পঞ্চায়েত
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: অর্থবর্ষ শেষ হতে দু’মাসও নেই, হাতে গোনা মাত্র ৫৬ দিন। অর্থবর্ষের এই শেষ ভাগেও উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান উঠে এসেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার পঞ্চায়েত ব্যবস্থায়। পঞ্চদশ কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশন ও পঞ্চম রাজ্য অর্থ কমিশন থেকে পাওয়া লক্ষ লক্ষ টাকা খরচই করতে পারছে না বহু পঞ্চায়েত। তাদের  অ্যাকাউন্টগুলিতেই পড়ে রয়েছে বিপুল অর্থরাশি। কিছু কিছু পঞ্চায়েত ৬০-৭০ শতাংশ টাকা খরচই করতে পারেনি।  যা মানুষের উন্নয়নের কাজে খরচ হওয়ার কথা ছিল। পঞ্চায়েত দপ্তরের রিভিউ মিটিংয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে ব্যর্থতার পাল্লা ভারি। 
Advertisement
তবে, কিছু পঞ্চায়েত অর্থ কমিশনের টাকা খরচে সফল। কয়েকটি পঞ্চায়েত দু’মাস বাকি থাকতেই অর্থ কমিশনের টাকা একশো  শতাংশ খরচ করে নজির গড়েছে। কিছু পঞ্চায়েত ৯০ শতাংশের বেশি অর্থ খরচ করতে সফল হয়েছে। পিছিয়ে পড়া পঞ্চায়েতগুলিতে কাজের গতি আনতে নির্দেশ দিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেই বিশেষ টিম গিয়ে পঞ্চায়েত গুলি কেন টাকা খরচ করতে পারছে না, তা এলাকায় গিয়ে খতিয়ে দেখবে। 
জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি বলেন, যে সব পঞ্চায়েত সঠিক ভাবে টাকা খরচ করতে পারছে না সেখানে জেলা পরিষদের টিম পরিদর্শনে যাবে। শেষ দু’মাসে যাতে বাকি টাকা খরচ করা যায়, তা নিয়ে সবরকম উদ্যোগ নেওয়া হবে। 
জামুড়িয়া ব্লকের পড়াসিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত কেন্দ্র ও রাজ্য অর্থ  কমিশনের টাকা খরচ করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ। রাজ্য অর্থ কমিশন থেকে তাঁরা টাকা পেয়েছিল ৩০ লক্ষ ২৮ হাজার ২২৮ টাকা খরচ করতে পেরেছে মাত্র ১১ লক্ষ১৮ হাজার ৮৩৪। শতাংশের বিচারে খরচ হয়েছে মাত্র ৩৬.৯৫ শতাংশ। 
একই ভাবে তাঁরা কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশন থেকে ৬৫ লক্ষ ১২ হাজার ৫৯৫ টাকা পায়। টাকা খরচ হয়েছে মাত্র ২৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯০৭ টাকা। শতাংশের বিচারে টাকা খরচ হয়েছে মাত্র ৩৯.১২ শতাংশ। ওই এলাকার পঞ্চায়েত সমিতি সদস্য ও তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি উদিপ সিং বলেন, আমাদের পঞ্চায়েতে ছ’মাস ধরে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্টেন্ট না থাকার জন্যই এই অবস্থা। তপসির আধিকারিককে আমাদের পঞ্চায়েতের বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দু’মাসে আমরা অনেকটা টাকা খরচ করতে পারব। 
পঞ্চদশ অর্থকমিশনের মাধ্যমে রূপনারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে টাকা এসেছে ৫৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৮৬ টাকা। খরচ হয়েছে ১৭ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯৮২ টাকা। শতাংশের বিচারে টাকা খরচ হয়েছে ৩২.৫৬ শতাংশ। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি নিজে রানিগঞ্জের রতিবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতে থাকেন। রানিগঞ্জ ব্লকের সেই পঞ্চায়েত কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশন থেকে ৩১ লক্ষ ৫২ হাজার২২৭ টাকা পেয়েছে। ব্যায় করেছে মাত্র ১০ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৪১ টাকা। অথাৎ, মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের বৈদ্যনাথপুর ও বহুলা পঞ্চায়েতে টাকা এসেছিল যথাক্রমে ৩২ লক্ষ ৩২ হাজার ৮০৬ ও ৩৬ লক্ষ ০৬ হাজার ১৬৮ টাকা। খরচ হয়েছে মাত্র ১১ লক্ষ ২১ হাজার ৫২৮ ও ১৩ লক্ষ ০৭ হাজার ১০৫ টাকা। রাজ্য অর্থ কমিশনের টাকা খরচে পিছিয়ে রয়েছে খান্দরা, কেন্দা, রামপ্রসাদপুর, উখরা গ্রামপঞ্চায়েত। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ