Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অর্থ কমিশনের বরাদ্দ ১০০ শতাংশ খরচের লক্ষ্যমাত্রা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের

অর্থ কমিশনের বরাদ্দ ১০০ শতাংশ খরচের লক্ষ্যমাত্রা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: গত দেড় বছরে বদলে গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। এই অল্প সময়ের মধ্যে কাজের পরিমাণও বেড়েছে দ্বিগুণ হারে। শুধু পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের একশো কোটি টাকার বেশি খরচ করে হচ্ছে নানা প্রকল্পের কাজ। এরফলে উপকৃত হচ্ছেন মেদিনীপুর জেলার কয়েক হাজার গ্রামের মানুষ। ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদের তরফে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের একশো শতাংশ খরচ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এখনও পর্যন্ত ৭৮ কোটি ৭২ লক্ষ টাকার কাজ করেছে জেলা পরিষদ। যা গত পাঁচ বছরের তুলনায় নতুন মাইলস্টোন তৈরি করেছে। 
Advertisement
এদিন জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, জেলা পরিষদ দ্রুততার সঙ্গে নানা প্রকল্পের কাজ করছে। মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে কাজের গতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু প্রকল্পের কাজ শুরু করেই বসে থাকা নয়। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কাজ পরিদর্শন করাও হচ্ছে। এরফলে কাজের মানও ঠিক থাকছে। আগামী অর্থবছরে আরও বেশকিছু প্রকল্পের কাজ রূপায়ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। 
প্রসঙ্গত, বাম আমলে জেলা পরিষদের কাজ নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠত। মানুষ ঠিকমতো পরিষেবা পেত না। তবে সরকার বদলের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জোরকদমে মেদিনীপুর জেলা পরিষদের কাজ শুরু হয়। কিন্তু, ২০২০ সাল থেকেই কাজের পরিমাণ তলানিতে এসে ঠেকে। বারংবার প্রশাসনের তরফে সমস্যার কথা জানানোর পরেও কাজ করেনি জেলা পরিষদ। তবে ২০২৪ সালের শুরু থেকেই কাজের গতি বাড়তে শুরু করে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে, একাধিক রাস্তা, নিকাশি নালা, সেতু, পথবাতি স্থাপন সহ একাধিক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। জেলা পরিষদের লক্ষ্য ছিল, মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখে আগের অর্থবছরের বকেয়া টাকাও তাঁরা দ্রুত উন্নয়নের কাজে ব্যয় করবে। দ্রুত কাজ শেষ করার কড়া বার্তা দেওয়ার পরেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে জানা গিয়েছে। জেলা পরিষদের পোর্টাল সূত্রে খবর, ২০২০-’২১, ২০২১-’২২ ও ২০২২-›২৩ অর্থবছরে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৯৯ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা এসেছিল। কিন্তু খরচ হয় মাত্র ৩৬ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। শতাংশের হারে খরচের পরিমাণ ছিল ৩৬.৫৩ শতাংশ। ৬৩ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা পড়ে থাকলেও কাজ হয়নি। এরফলে একাধিক কাজের পরিকল্পনা করলেও বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। সমস্যায় পড়তে হয় বহু গ্রামের মানুষকে। তবে ২০২৩-›২৪ অর্থবর্ষের মাঝামাঝি সময় থেকেই অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে। চলতি অর্থবছরে  ১০৯ কোটি টাকার ব্যালান্স রয়েছে। যার মধ্যে খরচ হয়েছে ৭৮ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। শতাংশের হারে খরচের পরিমাণ ৭১.৭০ শতাংশ। যা গত কয়েক বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এখনও ৩১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা খরচ করে নানা প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে জেলা পরিষদ। 
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, পাঁচ বছরে মধ্যে গত দেড় বছরে কাজের পরিমাণে সবচেয়ে বেশি। একসময় জেলা পরিষদের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কাজের বিচারে রাজ্যের মধ্যে অনেকটাই নীচে নেমে গিয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। তবে জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও কর্মাধ্যক্ষদের চেষ্টায় পরিস্থিতির বদল হয়েছে। এদিন কেশপুরের বাসিন্দা হিমাংশু মণ্ডল বলেন, জেলা পরিষদ অনেক কাজ করেছে। রাস্তা, ছোট সেতু তৈরি করায় মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। এছাড়াও রাস্তায় আলোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। কাজের গতি আরও বাড়লে উপকৃত হবেন মানুষ। একইসঙ্গে পঞ্চায়েতগুলোর আরও উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ