Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অর্থ কমিশনের ৩৫ লক্ষ নয়, দুর্নীতির অঙ্ক ৫০ লক্ষ, গোকুলনগর পঞ্চায়েতের অডিট রিপোর্ট জমা

অর্থ কমিশনের ৩৫ লক্ষ নয়, দুর্নীতির অঙ্ক ৫০ লক্ষ, গোকুলনগর পঞ্চায়েতের অডিট রিপোর্ট জমা
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: নন্দীগ্রামের গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৩৫লক্ষ নয়, ৫০লক্ষ টাকা চুরি হয়েছে। টাকা হাতানোর সময় প্রতিটি লেনদেনে বিজেপির পঞ্চায়েতের প্রধান দীনবন্ধু মণ্ডল ও এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ওটিপি শেয়ার করেছেন। ১০ বারের বেশি অবৈধ লেনদেন করে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ টাকা লোপাট করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট লেভেল অডিট কমিটির রিপোর্টে ওই তথ্য ওঠে এসেছে। মঙ্গলবার এনিয়ে জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট জমা পড়েছে। তাতে জানা গিয়েছে, আর্থিক তছরুপের অভিযোগে পুলিসের হাতে ধৃত পঞ্চায়েতের সচিব নীলরতন দাস নিজের অ্যাকাউন্টে ৩৫লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেছেন। এছাড়াও পঞ্চায়েতের এক ঠিকাদারের অ্যাকাউন্টে ১৫লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করান। তারপর সেই ঠিকাদারের অ্যাকাউন্ট থেকে আবার ওই পরিমাণ টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করান ধৃত সচিব। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যে কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে ফান্ডের টাকা পেমেন্ট করার সময় প্রধান ও এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের(ইএ) মোবাইলে ওটিপি যায়। নন্দীগ্রাম-১ব্লকের গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রেও প্রধান এবং ইএ-র অ্যাকাউন্টে ওটিপি ঢুকেছিল। তাঁরা সেই ওটিপি সচিবকে শেয়ার করেন। এভাবেই উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ বেহাত হয়েছে। প্রধান ও নির্বাহী সহায়ক ডিস্ট্রিক্ট লেভেল কমিটির কাছে জানিয়েছেন, তাঁরা ফান্ডের টাকা নয়ছয় সম্পর্কে কিছু জানতেন না। ধৃত সচিব তাঁদের অন্ধকারে রেখে ওটিপি আদায় করে ফাঁসিয়েছে। যদিও প্রধান কিংবা এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের অ্যাকাউন্টে ওই টাকা যায়নি বলে অডিট টিমের তরফে জানানো হয়েছে। বিজেপি প্রধান বলেন, সচিব যখন ওটিপি চেয়েছেন তা দিয়েছি। কিন্তু, সেই ওটিপি নিয়ে যে উনি আর্থিক তছরুপ করছেন, তা বুঝতে পারিনি।
তবে বিজেপির উপপ্রধান সহ বিক্ষুব্ধ সদস্যদের দাবি, আর্থিক দুর্নীতির পরিমাণ আরও বেশি। তাঁদের বক্তব্য, গত এক বছরে ওই গ্রাম পঞ্চায়েত নিজস্ব তহবিলে ১৪লক্ষ টাকা আদায় করেছে। টাকা আদায়ের হিসেব থাকলেও খরচের হিসেব নেই। ওই ১৪লক্ষ টাকা পুরোটাই গায়েব হয়ে গিয়েছে। ‘ওন ফান্ডে’র ওই হিসেব নিয়েই প্রথমে বিজেপির দুই শিবিরের ঝামেলা হয়েছিল। সাধারণ সভার বৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল। তারপর জানা যায়, শুধু ওন ফান্ড নয়, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মোটা টাকাও গায়েব হয়েছে। ওই পঞ্চায়েতে আর্থিক দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন অফিসার দেবদুলাল বিশ্বাসের নেতৃত্বে স্পেশাল অডিট টিম তৈরি হয়। সেই টিম ওই পঞ্চায়েতে গিয়ে দুর্নীতির হাঁড়ির খবর বের করে এনেছে। সেই রিপোর্ট ডিএমের কাছে জমা পড়েছে। পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ হয় সেদিকে প্রত্যেকের নজর রয়েছে। আপাতত ওই ঘটনায় পঞ্চায়েতের সচিব শ্রীঘরে। পুলিস ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত করেছে। অর্থাৎ ওই গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে এখন আর কোনওরকম লেনদেনের করা যাবে না। 
গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির উপপ্রধান নমিতা গিরি বলেন, আমরা এতদিন পঞ্চদশ অর্থ কমিশনে ৩৫লক্ষ টাকা লুট হয়েছে বলে জানতাম। স্পেশাল অডিট হওয়ায় জানা গেল, সেটা আসলে ৫০লক্ষ টাকা। তবে, ওন ফান্ডের টাকা তছরুপের অঙ্ক যোগ করলে পরিমাণটা বেড়ে প্রায় ৬৫লক্ষ টাকা হবে। আমরা চাই, এতবড় আর্থিক দুর্নীতির ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের উপযুক্ত শাস্তি হোক। কারণ, আমরা ‘চোরমুক্ত’ পঞ্চায়েতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বোর্ড দখল করেছিলাম। এক বছরের মধ্যে এত লক্ষ টাকা তছরুপ কি ‘চোরমুক্ত’ পঞ্চায়েতের নমুনা?
সম্পর্কিত সংবাদ