নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজো মণ্ডপে প্রবেশের আগেই ভিড় লাইনে কান ঝালাপালা করা বাঁশির পোঁ পোঁ শব্দ। সেই আওয়াজের ঠেলায় প্রতিমা দর্শন মাথায় ওঠে। দুর্গাপুজো এলে এই ছবি সবার চেনা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজো মণ্ডপে প্রবেশের আগেই ভিড় লাইনে কান ঝালাপালা করা বাঁশির পোঁ পোঁ শব্দ। সেই আওয়াজের ঠেলায় প্রতিমা দর্শন মাথায় ওঠে। দুর্গাপুজো এলে এই ছবি সবার চেনা।
বুধবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কোঅর্ডিনেশন বৈঠকে সিভিক ভলান্টিয়ারদের এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে সরব হলেন পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, ‘কোথাও মুহুর্মুহু বাঁশির শব্দ, কোথাও আবার বাঁশের ব্যারিকেডে উঠে নাচানাচি, কখনও ভিড় লাইনে দর্শনার্থীদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিপদ ঘটছে।’ এর জেরে সিভিক ভলান্টিয়ারদেরই দুষছেন উদ্যোক্তারা। এ প্রসঙ্গে, কলেজ স্কোয়্যার পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য বিকাশ মজুমদার পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মাকে অনুরোধ জানান, ‘ঠাকুর দেখার বদলে সিভিক দর্শন করতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। আমরা এটা চাই না। এভাবে সিভিক ভলান্টিয়াররা কাজ করলে, তাঁদের প্রয়োজন নেই। বরং সেই কাজ পুজো কমিটির নিজস্ব সদস্য ও ভলান্টিয়াররা সামলে নেবেন।’ কলেজ স্কোয়্যারের সঙ্গে অডিটোরিয়ামে উপস্থিত অনেকেই এই অভিযোগের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। ছোট কিছু পুজো কমিটির দাবি, রাতের বেলা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিভিকরা প্যান্ডেলে ঘুমোন। যা অনভিপ্রেত। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর) মিরাজ খালিদ এই অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন উদ্যোক্তাদের।
সিভিক অসন্তোষ ছাড়া রাস্তা, আলো, নিকাশি নিয়েও অভিযোগ তোলেন পুজো উদ্যোক্তারা। বেলেঘাটা ৩৩ পল্লি ক্লাবের কর্মকর্তা পরিমল দে-র কথায়, ডেপুটি কমিশনার (ইএসডি) অফিসের উল্টোদিকের রাস্তা দিয়েই আমাদের দর্শনার্থীরা মণ্ডপ থেকে বের হন। কিন্তু, সেখানে রাস্তায় নিকাশির হাল খারাপ। নোংরা জল জমে থাকে। ফলে তা পার করে যেতে মানুষের সমস্যা হয়। ৫ বছর ধরে এই নিকাশি মেরামতি হচ্ছে না। মণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো না থাকার অভিযোগ জানিয়েছেন, কলেজ স্কোয়্যার, সুরুচি সংঘ ও চেতলা অগ্রণী সহ অন্যান্যরা কয়েকটি পুজো। কলকাতা পুরসভার আধিকারিক মৃদুল বিশ্বাস বলেন, উদ্যোক্তাদের সব অভিযোগ, নোট করা হয়েছে। সেগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। বৈঠক শেষে পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা বলেন, ‘আসান পোর্টালে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পুজো উদ্যোক্তা আবেদন জানিয়েছেন। বাকিরা দ্রুত পোর্টালের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে নিন। পাশাপাশি, পুজো অনুদানের টাকা কীভাবে খরচ হল, তার রিপোর্ট দেওয়ার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে একটি তারিখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে উদ্যোক্তাদের এই রিপোর্ট জমা করতে হবে।’-নিজস্ব চিত্র