সংবাদদাতা, মানিকচক: মানিকচকে পথ দুর্ঘটনার পর বাসচালক ও খালাসিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভে উত্তাল নূরপুর। রতুয়া-মানিকচক রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল রতুয়া বাস চালক ও মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব। অভিযোগ, পুলিস বেআইনিভাবে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। মানিকচক থানার আইসির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। এদিন প্রায় চার ঘণ্টা পর পুলিস ও ব্লক প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান না হলে শুক্রবার থেকে রাস্তায় গাড়ি চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনের নেতৃত্ব।
মানিকচকের নাজিরপুর নিমতলী এলাকায় রাজ্য সড়কে বুধবার একটি পথ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর জখম হন এক বাইক চালক। দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে বাসের গাফিলতি সামনে আসে। যার ফলে বাসকে ধাওয়া করে নুরপুরে ধরে পুলিস। গ্রেপ্তার করা হয় চালক রাহুল শেখ ও খালাসি ভোলা সিনহাকে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার সঙ্গে বাসের কোনও সম্পর্ক নেই দাবি করে ঘটনার রাতে মানিকচক থানায় উপস্থিত হন রতুয়া বাস অ্যান্ড মিনিবাস কল্যাণ সমিতির তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। তাঁরা কথা বলেন মানিকচক থানার আইসির সঙ্গে। সেখানে সংগঠনের সম্পাদক ওসমান গনি সহ অন্যরা গেলে তাঁদের সঙ্গে আইসি দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মানিকচকের নূরপুর ব্যারেজ সংলগ্ন রাজ্য সড়ক অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ। সংগঠনের সম্পাদক বলেন, টোটো ও বাইকের দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু পুলিস আমাদের বাসের চালক ও খালাসিকে গ্রেপ্তার করেছে। আইসি দু’দিন পর আমাদের পেটাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। তাই আমরা এই অবরোধ করেছি।অবরোধের প্রায় চার ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে বাহিনী নিয়ে যান মানিকচক থানার আইসি সুবীর কর্মকার। এছাড়া রতুয়া থানার পুলিস উপস্থিত হয় এবং অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তোলে। ওসমান বলেন, আমরা আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছি। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আগামীকাল থেকে বন্ধ রাখা হবে গাড়ি চলাচল। সুবীর কর্মকার বলেন, দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লিখিত অভিযোগ হয়েছে বলেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সংগঠনের সদস্যদের পেটানোর কথা আমি বলিনি। রতুয়া-মানিকচক রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল রতুয়া বাস চালক ও মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন।