Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঘোড়ামাড়া দ্বীপ বাঁচাতে যৌথ কমিটি গড়ার নির্দেশ

সুন্দরবনের ঘোড়ামাড়া দ্বীপে ভাঙন প্রতিরোধ এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সংরক্ষণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল।

ঘোড়ামাড়া দ্বীপ বাঁচাতে যৌথ কমিটি গড়ার নির্দেশ
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুন্দরবনের ঘোড়ামাড়া দ্বীপে ভাঙন প্রতিরোধ এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সংরক্ষণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)। বেঞ্চের চেয়ারম্যান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও সদস্য আফরোজ আমেদ এই নির্দেশ দিয়েছেন। এই কমিটি গঠিত হবে কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের ভুবনেশ্বর আঞ্চলিক অফিসের ডিজি (ফরেস্ট) এবং রাজ্যের সিসিএফ’কে নিয়ে। এনজিটির কাছে কমিটির সুপারিশ জমা পড়বে তিনমাসে। দ্বীপের ভাঙন প্রতিরোধ এবং  ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রক্ষা ও সম্প্রসারণ কীভাবে সম্ভব, সুপারিশেই তা জানাতে হবে। কোন সংস্থাকে দিয়ে এবং মোটামুটি কত টাকায় ও কতদিনে কাজটি করা যাবে কমিটিকে জানাতে হবে সেটাও। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ মে। 

Advertisement

এই প্রসঙ্গে সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা বলেন, ‘এটা ভালো উদ্যোগ। কাজটা ঠিকমতো হলে উপকারই হবে। ঘোড়ামাড়াসহ গোটা সুন্দরবনে স্থায়ী কংক্রিট বাঁধ নির্মাণ করতে পারলেই ভাঙন আটকানো যাবে।’
মুড়িগঙ্গা নদীতে সাগরদ্বীপের কাছে অবস্থিত ঘোড়ামাড়া দ্বীপে ক্রমাগত ভাঙন হচ্ছে। সমস্যাটি কয়েক দশকের। ভাঙনের ফলে সম্ভাবনাময় দ্বীপটির আয়তন কমতে কমতে অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়েছে। এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে ২০৪২ সালের ভিতরে এই দ্বীপ আয়তনে আরো ছোটো হয়ে যাবে এবং হারিয়ে যাবে বর্তমান আয়তনের ৪২ শতাংশ। আশঙ্কা এনজিটির। ভাঙনের জন্যই ঘোড়ামাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জনসংখ্যাও কমে যাচ্ছে। সর্বশেষ জনগণনা অনুযায়ী, এই দ্বীপে হাজার পাঁচেক মানুষের বসবাস ছিল। এখন তা মাত্র তিন হাজারে নেমে এসেছে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্ট উদ্ধৃত করে এনজিটি জানিয়েছে, ১৯৬৯ সালে এই দ্বীপের আয়তন ছিল ৮.৫৯ বর্গ কিমি। ২০১৯ সালে তা কমে হয়েছে ৩.৮৩ বর্গ কিমি। এইসময়ে ভাঙনের কবলে পড়ে সুন্দরবন এলাকায় ২৫০ বর্গ কিমি জমি নষ্ট হয়েছে। 
ঘোড়ামাড়া দ্বীপসহ সুন্দরবন এলাকায় ভাঙন কেন হচ্ছে? ঘোড়ামাড়া দ্বীপের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এর উত্তর খুঁজতে এনজিটি রাজ্য পরিবেশ দপ্তর এবং অন্য একাধিক সরকারি দপ্তরের রিপোর্ট উল্লেখ করেছে। ১২.২৪ কিমি দীর্ঘ এলাকা মজবুত করতে ইতিমধ্যে ৫ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে হয়েছে বাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। তৈরি করা হয়েছে রিংবাঁধও। কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে যেসব কাজ হয়েছে তা যথেষ্ট নয় বলেই মত এনজিটির। তারা মনে করে, দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে সুসংহত পরিকল্পনা রূপায়ণ জরুরি। তার জন্যই যৌথ বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘোড়ামাড়াসহ সুন্দরবন এলাকার ভাঙনের কারণ কী? জবাবে জিএসআই এবং রাজ্য পরিবেশ দপ্তরের রিপোর্ট উল্লেখ করেছে এনজিটি। আজকের বিরূপ পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ কী? এজন্য যেসব সমস্যাকে দায়ী করা হয়েছে সেগুলি হল—এলাকাটি বেঙ্গল বেসিনের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে হেলে আছে। এখানকার ভূবৈশিষ্ট্য বিশেষ ধরনের। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে ঘূর্ণিঝড় বেশি হচ্ছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রজলস্তর। এছাড়া নদীগুলিতে যথেচ্ছভাবে তৈরি করা হচ্ছে বাঁধ, লকগেট, স্লুইস গেট প্রভৃতি। তার ফলে জল সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং জমছে পলি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ