সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ডিসেম্বর মাসে বাংলা আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তিন মাসের বেশি পেরিয়ে গেলেও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি বেশকিছু উপভোক্তা। সেইসব উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানো শুরু করল প্রশাসন। নোটিস পাওয়ার ১৫দিনের মধ্যে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু না করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আবাস যোজনা প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার শিকার রাজ্য। তাই গরিব মানুষের মাথায় ছাদ দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্য সরকারই বাংলা আবাস যোজনায় বাড়ির টাকা দেবে। সেই প্রতিশ্রুতিমতো গত ডিসেম্বরেই প্রথম কিস্তির ৬০হাজার টাকা করে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নবান্নে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা পড়েছে। তাতে জানা গিয়েছে, কয়েকটি জেলার পাশাপাশি বীরভূমের অনেক উপভোক্তা টাকা পেলেও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি। তিন মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেলেও এখনও একটা বড় অংশের মানুষ সেই টাকা দিয়ে সিমেন্ট, বালি সহ প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী কিনে উঠতে পারেননি। টাকা দেওয়ার পরও বাড়ি তৈরিতে গড়িমসি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নবান্ন থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর প্রতিটি ব্লক সার্ভে করতে মাঠে নামে। দেখা যায়, অনেকে বাড়ি তৈরির জন্য ইমারতি সামগ্রী নিয়ে এলেও এখনও নির্মাণ কাজ শুরু করেননি। আবার কেউ কেউ টাকা পেয়েও কাজ শুরুই করেননি। এর আগে বেশ কয়েকবার ব্লক প্রশাসনের লোকজন মৌখিকভাবে সেইসব উপভোক্তাদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে সতর্ক করেন। জানানো হয়, প্রথম দফায় টাকা দেওয়ার পর কাজের অগ্রগতি হলেই পরবর্তী পর্যায়ে টাকা পাবেন উপভোক্তারা। ফলে যাঁরা এখনও কাজ শুরু করেননি তাঁরা পরবর্তীতে টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে পারেন। কিন্তু তারপরও অনেক উপভোক্তার কোনও হেলদোল নেই। এই অবস্থায় সেইসব উপভোক্তাদের বাড়ি গিয়ে নোটিস ধরাতে শুরু করল ব্লক প্রশাসন। নোটিসে লেখা হয়েছে, প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি বা কোনওরকম সরঞ্জাম ক্রয় করেননি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু না করলে উপভোক্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও নোটিসে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও প্রশাসনের লোকজন বাড়ি তৈরির কাজ শুরু না করলে টাকা ফেরত দিতে হবে বলে সই করিয়ে নিচ্ছে বলে অনেকে উপভোক্তা জানাচ্ছেন। মুরারই-২ ও নলহাটি-২ ব্লকে এমন কয়েকজনের বাড়িতে সেই নোটিস পৌঁছেছে। মুরারই-২ বিডিও মিন্টু ঘোষাল বলেন, প্রাথমিকভাবে সার্ভে করা হয়েছিল। যাঁরা টাকা পাওয়ার পরও কিছুই করেননি তাঁদের নোটিস ধরাচ্ছি। নোটিসে নির্দিষ্ট দিনের উল্লেখ রয়েছে। তার মধ্যে বাড়ির কাজ শুরু না করলে আইনি পথে যাব। পাশাপাশি তিনি বলেন, উপভোক্তাদের অনেকে পরিযায়ী শ্রমিক। আমাদের কাছে খবর আছে, তাঁরা ছুটিতে এসে মালপত্র কিনে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করবেন। নলহাটি-২ বিডিও রজতরঞ্জন দাস বলেন, নোটিস পাঠিয়ে ফোন করে উপভোক্তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। লিন্টেল পর্যন্ত বাড়ি না উঠলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন না।