Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছটে মাংসের দোকান বন্ধের ফরমান, অণ্ডালে নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে মুখ পুড়ল বিজেপির

শনিবার রানিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি রাখালচন্দ্র দাস দলের প্যাডে অণ্ডাল থানার ওসির কাছে একটি লিখিত আর্জি রাখেন।

ছটে মাংসের দোকান বন্ধের ফরমান, অণ্ডালে নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে মুখ পুড়ল বিজেপির
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ১৭:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ছটপুজোকে সামনে রেখে বাংলার খাদ্যাভাসে নাক গলাতে গিয়ে মুখ পুড়ল বিজেপির। 

Advertisement

শনিবার রানিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি রাখালচন্দ্র দাস দলের প্যাডে অণ্ডাল থানার ওসির কাছে একটি লিখিত আর্জি রাখেন। তাতে তিনি বলেন, রবি ও সোমবার অণ্ডালে মাছ ও মাংসের দোকান যেন বন্ধ থাকে। পুলিশকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি বিজেপি নেতা-কর্মীরা বাজারে ঘুরে ঘুরে মাছ, মাংসের দোকান বন্ধ রাখার ফরমান জারি করেন। সেই মতো রবিবার সকালে অণ্ডালের বাজারে হানা দেয় স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মী। একটি মাংসের দোকানে চড়াও হয়ে অবিলম্বে তা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্যাভাসের উপর গেরুয়া বাহিনীর এমন ফরমানের বিরুদ্ধে সরব হন স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ এসে ওই ব্যবসায়ীকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাস পেয়ে তিনি দোকানও খোলেন। ফরমানটি হিতে বিপরীত হতে দেখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। পত্রপাঠ স্থানীয় নেতাদের উপর দায় চাপিয়ে মুখরক্ষার চেষ্টা করা হয়। বিজেপি জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের সাফ কথা, ‘আমাদের দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে না। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় নেতৃত্ব কোনও আলোচনাই করেনি।’ অণ্ডালের বাসিন্দা নবীন শর্মা ও প্রদীপ সিংয়ের বাড়িতে বহু বছর ধরেই ছট উৎসব পালিত হয়। তাঁরা বলছিলেন, ‘দীর্ঘবছর ধরে বাঙালি ও অবাঙালিরা মিলিতভাবে ছটপুজো করে আসছি। কোনও ফতোয়া দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। বহু বাঙালি স্বেচ্ছাতেই নিরামিষ খান। এই ফরমানের কোনও দরকার ছিল না।’  বাজারের এক প্রবীণ ব্যবসায়ী আক্ষেপের সঙ্গে বলছিলেন, ‘বহু বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। কিন্তু এভাবে মাছ-মাংসের দোকান বন্ধের ফরমান জারি হয়নি।’ 
এদিন অণ্ডালের এসিপি পিন্টু সাহা বলেন, ‘মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় কিছু লোকজন জোর করে মাছ-মাংসের দোকান বন্ধের চেষ্টা করেছিল। আমরা এলাকা পরিদর্শন করেছি। দোকানদারকে আশ্বস্ত করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কখন দোকান খুলবেন আর কখন বন্ধ করবেন, তা আপনি নিজেই ঠিক করবেন।’ পশ্চিম বর্ধমান জেলার অণ্ডাল যথেষ্ট বড় বাজার। অণ্ডালে উত্তর ও দক্ষিণ দু’টি বাজার রয়েছে। এলাকায় অবাঙালি মানুষের বসবাস নেহাত কম নয়। বহু বছর ধরেই শান্তিপূর্ণভাবে এখানে ছট উৎসব হয়ে আসছে। ছটপুজোয় অণ্ডাল বাজারে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অনেকে মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ রাখেন। কিন্তু রবিবার ভালো বিক্রি হয় বলে আসানসোল উত্তর বাজারের মাংস বিক্রেতা অজয় মণ্ডল দোকান খোলেন। আচমকা দোকানের সামনে হাজির এলাকার বিজেপির মুখ বলে পরিচিত কয়েকজন যুবক। অবিলম্বে তাঁরা দোকান বন্ধ করতে বলেন। অজয়বাবু বন্ধ করতে না চাওয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ এসে তাঁকে আশ্বস্ত করেন। ঘটনায় বিজেপিকে একহাত নিয়েছেন রানিগঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এসব বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি। নিন্দা জানাচ্ছি।’ বিজেপি নেতা রাখালচন্দ্র দাসের সাফাই, ‘বাজারে ছট ব্রতীরা আসছেন। তাঁদের যাতে মাছ-মাংসের জল পেরিয়ে না যেতে হয়, সেই কারণেই দু’দিন দোকান বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছিলাম।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ