সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: হিমালয়ের সিঞ্চুলা রেঞ্জে বক্সা পাহাড়ে নতুন করে কমলালেবু চাষের উদ্যোগ নিল আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। এই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার জেলা উদ্যান পালন দপ্তর ও জেলা কৃষিদপ্তর বক্সা পাহাড়ের চাষিদের মধ্যে ১২ হাজার কমলালেবুর চারা বিলি করল। জেলাশাসক আর বিমলা বলেন, বক্সা পাহাড়ে কমলালেবুর চাষ বাড়াতে সেখানকার চাষিদের মধ্যে বৃহস্পতিবার চারা বিলি করা হয়েছে।
এদিন তাসিগাঁও, লেপচাখা, সান্তলাবাড়ি, আদমা, চুনাভাটি, সদর বাজার সহ বক্সা পাহাড়ের ১৩টি পাহাড়ি গ্রামের দেড়শো জন চাষির মধ্যে কমলালেবুর চারা বিলি করা হয়। সান্তলাবাড়িতে শিবির করে চারাগুলি বিলি করা হয়। কমলালেবু চাষে প্রশাসন এগিয়ে আসায় উচ্ছ্বসিত বক্সা পাহাড়ের গ্রামগুলির কমলা চাষিরা।
এদিন চারা বিলির সময় উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ারের মহকুমা শাসক দেবব্রত রায়, জেলা কৃষি সহ অধিকর্তা সর্বেশ্বর মণ্ডল ও উদ্যান পালন দপ্তরের জেলা আধিকারিক দীপক সরকার। শিবিরে চাষিদের কমলালেবুর চারা রোপণ, পরিচর্যা ও কী সার দিতে হবে তার পরামর্শ দিয়েছেন উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ নীলেশ ভৌমিক। চারা রোপণের পর রোগপোকা দমনে কী করণীয় শিবিরে তা নিয়ে চাষিদের পরামর্শ দেন উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ সুরজিৎ খালকো।
উদ্যান পালন দপ্তরের জেলা আধিকারিক বলেন, প্রত্যেকের হাতে ৮০টি করে চারা দেওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ির মোহিতনগর কৃষিফার্ম থেকে আনা হয়েছিল চারাগুলি। এগুলি মেন্ডারিন প্রজাতির। বক্সা পাহাড়কে কমলালেবুর জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
১৯৯৩ সালে ভয়াবহ বন্যা হয় আলিপুরদুয়ার জেলায়। সেই বন্যা, ধস ও ভূমিক্ষয়ে কমলা চাষের এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়। তখন থেকে বক্সা পাহাড়ে কমলালেবুর চাষে আগ্রহ হারান স্থানীয় চাষিরা। এবার প্রশাসন এগিয়ে আসায় বক্সা পাহাড়ের চাষিরা নতুন করে কমলালেবু চাষে স্বপ্ন দেখছেন।
নিজস্ব চিত্র।