Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ওপারের ভক্তদের নিয়ে চিন্তিত নবদ্বীপের গুরুপাট, মঠ-মন্দির

ওপারের ভক্তদের নিয়ে চিন্তিত নবদ্বীপের গুরুপাট, মঠ-মন্দির
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: এবছর নবদ্বীপ থেকে শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর পাদুকা যুগল বাংলাদেশে যাচ্ছে না। প্রতিবছর বাংলাদেশের ভক্তদের আহবানে সে দেশে নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীগৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর চরণ পাদুকা। এবছর বাংলাদেশে পরিস্থিতি  অশান্ত হয়ে ওঠায় পাদুকা যাবে না সে দেশে। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু মন্দিরের শ্রীশ্রী বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতি। মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছরই গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শ্রীচরণ পাদুকা ভক্তদের আহবানে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। গত বছর চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এবছর সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না।
Advertisement
নবদ্বীপের শ্রীশ্রী বিষ্ণুপ্রিয়া সমিতির কার্যকরী সভাপতি সুদিন গোস্বামী বলেন, প্রতিবছরই ভক্তদের আহবানে প্রভুর শ্রীচরণ পাদুকা নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশে। এবিষয়ে সর্বপ্রথমে ভারতের দূতাবাসের অনুমতি নিতে হয়। সেখান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাঠায় ভারতীয় দূতাবাস। তিন মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। যতবার বাংলাদেশ যাওয়া হয়েছে ততবারই স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে অনুমতি নিতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অনুমতির সেই কপি পাঠানো হয় ভারতীয় দূতাবাসে। ভারতীয় দূতাবাস তা বাংলাদেশ দূতাবাসকে পাঠিয়ে দেয়। তারপর রাজ্য সরকারকে জানানো হয়। তারপর জানানো হয় এয়ারপোর্ট অথরিটিকে। এরপর অনুমতি মিললে শ্রীচরণ পাদুকা বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পাইলট কার সহযোগে কলকাতার দমদম থেকে ঢাকার বিমানবন্দরে, তারপর সেখান থেকে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে পৌঁছয়। গত বছর ও বাংলাদেশের চট্টগ্রামে পাঁচদিন ছিল এই শ্রীচরণ পাদুকা। সেখানে পাদুকার পূজার্চনাও হয়েছিল। ওদেশে হাজার হাজার ভক্ত পাদুকা দর্শনে করতে আসেন। উল্লেখ্য, এবছরও দোলের আগে এই পাদুকা সিলেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তাব আসে। 
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের গুরুপাট নবদ্বীপ ধাম। প্রতিবছরই বিভিন্ন উৎসবে নবদ্বীপে ভিড় করেন বাংলাদেশের ভক্তরা। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে চিন্তিত বিভিন্ন মঠ, মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাঁরা বাংলাদেশের পরিস্থিতির বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে খোঁজখবর নিচ্ছেন। নবদ্বীপ রাধা মদনমোহন মন্দিরের সেবায়েত নিত্যগোপাল গোস্বামী বলেন, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, সমগ্র বাংলাদেশে আমাদের লক্ষাধিক শিষ্য রয়েছেন। মাঝে মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের খোঁজখবর নিচ্ছি। বাংলাদেশে অতি দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক মহাপ্রভুর চরণে এই প্রার্থনা করি। নবদ্বীপ গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের মহাসচিব তথা বলদের জিউ মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত কিশোর কৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, বাংলাদেশের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালি, কুমিল্লা,চট্টগ্রাম প্রায় ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার পরিবার শিষ্য রয়েছেন আমাদের। বাংলাদেশের পরিস্থিতির জন্য ওখানকার শিষ্যরা প্রায় ঘরবন্দি করে রেখেছেন নিজেদের।
কথিত আছে, মহাপ্রভু সন্ন্যাস গ্রহণের পর তাঁর সহধর্মিনী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী স্বামীর বিরহে কাতর হয়ে পড়েন, সেই দুঃখ কষ্ট নিরসনের জন্য মহাপ্রভু এই পাদুকা তাঁর সহধর্মিনী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর উদ্দেশে রেখে গিয়েছিলেন। বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী স্বামীর এই পাদুকা যুগল আঁকড়ে ধরে সেবা পুজো করতেন। পরবর্তীতে বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী তাঁরই ভাই যাদবাচার্যের ছেলে মাধবাচার্যকে সেই পাদুকা যুগল অর্পণ করে গিয়েছিলেন। সেই থেকেই বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে নিষ্ঠা সহকারে সেটির সেবা পুজো হয়ে আসছে।
সম্পর্কিত সংবাদ