Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করায় বড় ভূমিকা নিল মৃত সদ্যোজাতর ডিএনএ

অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করায় বড় ভূমিকা নিল মৃত সদ্যোজাতর ডিএনএ
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: মৃত সদ্যোজাতর ডিএনএ ধর্ষণকারীকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করতে বড় ভূমিকা নিল। মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে ধর্ষণ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হল তাঁর প্রতিবেশী। শনিবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন আসানসোল আদালতের বিচারক তানিয়া ঘোষ। ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হলেও তথ্য প্রমাণের নিরিখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় নির্যাতিতার প্রসব করা মৃত সদ্যোজাতর ডিএনএ। আদালতে সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্তানটির ময়নাতদন্ত করার সময়ে ডিএনএ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। তারপর নির্যাতিত ও অভিযুক্তের ডিএনএ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে প্রমাণ হয় অভিযুক্তই সদ্যোজাতর বায়োলজিক্যাল বাবা। সোমবার অভিযুক্তর সাজা ঘোষণা হবে। সরকারি আইনজীবী তাপস উকিল বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীকে ধর্ষণ করার দায়ে সালানপুর থানা এলাকার বাসিন্দা রবি তুড়ি ওরফে গুঠুকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। 
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সালানপুর থানায় ২০২০ সালের জুলাই মাসে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন নির্যাতিতার মা। তিনি জানান, ১১ জুলাই মেয়ের পেটে ব্যথা হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও চিকিৎসক জানান, যুবতী গর্ভবতী। এরপর মেয়ে জানায়, রবি তুড়ি তাঁকে জোর করে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কেউ জানলে খুন করার ভয় দেখায়। পুলিস অভিযোগ পাওয়ার পরই রবি তুড়িকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক মাস পর নির্যাতিতার প্রসব যন্ত্রণা উঠলে বাড়ির শৌচালয়েই মৃত সন্তান প্রসব করেন। তাঁকে প্রথমে পিঠাইকেয়ারি হাসপাতাল পরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই সদ্যোজাতর ময়নাতদন্ত হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় এই ঘটনার পর হঠাৎই নির্যাতিতা ছ’মাসের জন্য নিখোঁজ হয়ে যায়। তারপর পরিবার থেকে কোনওরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে সালানপুর থানা তাঁকে খোঁজা শুরু করে। পরে আসানসোল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে হোমে রেখে নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া করেন বিচারক। 
সম্পর্কিত সংবাদ