জাপানে ক্রমশ বুড়োবুড়ির সংখ্যা বাড়ছে। একা একা অনেকে শেষ বয়সটা অতিবাহিত করছেন। বহুদিনই শোনা যাচ্ছে এ কথা। গত ডিসেম্বরেই ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিক্স’-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বুড়ো হওয়ার জন্য বেশ আদর্শ এবং স্বাস্থ্যকর দেশ জাপান। জাপানের ওকিনাওয়া চিহ্নিত হয়েছিল দীর্ঘজীবী এবং সুখী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য যত্নে তৈরি ব্লু জোন হিসেবে। বছর ঘুরতেই বাস্তব বলছে অন্য কথা। মার্কিন এক সংবাদমাধ্যমে দাবি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা মোটেই এত সুখে নেই। তার সাক্ষ্য দিচ্ছে উত্তর টোকিওয় মহিলাদের জন্য নির্মিত সবচেয়ে বড় কারাগারটি। কীভাবে?
Advertisement
ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, মহিলা কারাগারে এখন বৃদ্ধা অপরাধীদের ভিড় জমেছে। এমন অনেকেই সেখানে রয়েছেন যাঁদের বয়স ৬৫ বা তারও বেশি। ২০০৩ সাল থেকে ২০২২ সালের হিসেবে এই সংখ্যাটা চার গুণ বেড়ে গিয়েছে। জাপানে বয়স্ক জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তাঁদের একাকিত্বও। রিপোর্টে দাবি, এই একাকিত্বের সঙ্গে যুঝতে না পেরেই জেনেশুনে অপরাধ করে কারাগারের অন্দরে আসতে চাইছেন অধিকাংশ বৃদ্ধা। সেখানে থাকলে তাঁদের মনে হচ্ছে, তাঁরা একা নন। যেমন জেনেবুঝেই জেলখানার ঠিকানা বেছে নিয়েছিলেন অশীতিপর আকিয়ো, খাবার চুরির করার মতো সাধারণ অপরাধে ধরা পড়েছিলেন তিনি। আকিয়ো বলছেন, ‘জেলখানায় খুব ভালো ভালো মানুষ। এখানে আমার জীবন বেশ ঠিকঠাক চলছে বলতে পারি।’
আকিয়োর কথা ফেলার মতোও নয়। কারাগারে ঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশও রয়েছে। এখানকার কারখানায় কাজ করার সুযোগ মেলে। কারাগারের তরফে অফিসার তাকিয়োশি শ্রীরানাগা বলছেন, ‘এখানে এমন অনেক বৃদ্ধাও আছেন যাঁরা ২০-৩০ হাজার ইয়েন ব্যয় করে আমৃত্যু থেকে যেতে আগ্রহী। প্রবল ঠান্ডায় খেতে না পেয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করে এখানে আশ্রয় খুঁজছেন ওঁরা। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবাও রয়েছে। তাই এখানে থেকে যাওয়া তাঁদের কাছে ভালো উপায়।’
অতএব অপরাধই এখন বাঁচার রাস্তা এই বৃদ্ধাদের কাছে। ফলে দেখা যাচ্ছে ৬৫-র বেশি বয়সের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ২০ শতাংশ দারিদ্র্যের শিকার। ২০২২ সালের এক রিপোর্টে দাবি, বৃদ্ধা অপরাধীদের ৮০ শতাংশই জেলে আসছেন চুরির দায়ে।
আকিয়োর কথা ফেলার মতোও নয়। কারাগারে ঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশও রয়েছে। এখানকার কারখানায় কাজ করার সুযোগ মেলে। কারাগারের তরফে অফিসার তাকিয়োশি শ্রীরানাগা বলছেন, ‘এখানে এমন অনেক বৃদ্ধাও আছেন যাঁরা ২০-৩০ হাজার ইয়েন ব্যয় করে আমৃত্যু থেকে যেতে আগ্রহী। প্রবল ঠান্ডায় খেতে না পেয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করে এখানে আশ্রয় খুঁজছেন ওঁরা। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবাও রয়েছে। তাই এখানে থেকে যাওয়া তাঁদের কাছে ভালো উপায়।’
অতএব অপরাধই এখন বাঁচার রাস্তা এই বৃদ্ধাদের কাছে। ফলে দেখা যাচ্ছে ৬৫-র বেশি বয়সের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ২০ শতাংশ দারিদ্র্যের শিকার। ২০২২ সালের এক রিপোর্টে দাবি, বৃদ্ধা অপরাধীদের ৮০ শতাংশই জেলে আসছেন চুরির দায়ে।



