Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অপরাধীদের আত্মগোপনের জায়গা হয়ে উঠেছে তারাপীঠ

অপরাধীদের আত্মগোপনের জায়গা হয়ে উঠেছে তারাপীঠ
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অপরাধ করে এসে লুকিয়ে থাকার জন্য দুষ্কৃতীরা বারবার বেছে নিচ্ছে তারাপীঠকে। অতীতে এমন বহু রেকর্ড রয়েছে। ছোট্ট একটি জায়গার মধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশো হোটেল ও লজ। কে কোন হোটেলে আত্মগোপন করে রয়েছে, পুলিসের পক্ষে তা জানা অসম্ভব। তাই হোটেলগুলিকে অতিথি নিবন্ধন বা অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের রেজিস্টার নিয়মিত থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় পুলিসের শীর্ষ মহলের পক্ষ থেকে। কিন্তু অধিকাংশ হোটেল ও লজ মালিক নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছেন বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় আজ বুধবার লজ অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পুলিস কর্তারা। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৫ নভেম্বর কলকাতার মানিকতলায় যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় তারাপীঠের একটি হোটেল থেকে চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিস। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার বামনগাছির প্রতিবাদী কলেজ ছাত্র সৌরভ চৌধুরী খুনে মূল অভিযুক্ত শ্যামল কর্মকারকে তারাপীঠ থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। অন্যের পরিচয়পত্র দিয়ে হোটেল ভাড়া নেয় সে। কিছুদিন আগে তারাপীঠে বেড়াতে এসে হোটেলের ঘরে স্ত্রীকে খুন করে চম্পট দেয় স্বামী। শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত এক জ্যোতিষীও তারাপীঠের লজ থেকে ধরা পড়ে। নকল অফিসার পরিচয়ে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নেওয়ার জন্য এখানকার হোটেল থেকে সল্টলেকের এক ব্যক্তিকে ধরা হয়। একইভাবে তারাপীঠ থেকে মুর্শিদাবাদের জালনোট কারবারি, আন্তঃরাজ্য চোরাই গাড়ি ও অস্ত্র কারবারি ধরা পড়ে। বোলপুরের প্রাক্তন শিক্ষিকা রেণু সরকার খুনে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা অভিযুক্তও তারাপীঠের লজ থেকে গ্রেপ্তার হয়। এইসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বোর্ডারদের সচিত্র পরিচয়পত্র জমা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে হোটেল ও লজগুলির বিরুদ্ধে। এছাড়া এখান থেকেই ধরা পড়ে আন্তঃরাজ্য এটিএম জালিয়াতি চক্রের তিন পান্ডা। এখানে রুটি-রুজির খোঁজে ভিন্ রাজ্য থেকে আসা মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জঙ্গিরাও নাম পরিচয় গোপন করে আত্মগোপন করে থাকতে পারে।
পুলিসের এক কর্তা বলেন, তারাপীঠ থেকে মাত্র চার ঘণ্টার দূরত্বেই বাংলাদেশ সীমান্ত। ১৫ কিমির মধ্যে ঝাড়খণ্ড সীমানা। এখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে হোটেল ভাড়া নিয়ে গা ঢাকা দেওয়া অনেকটাই সহজ। তারাপীঠের হোটেল ও লজ ব্যবসায়ীদের একাংশ সঠিক পরিচয়পত্র যাচাই না করেই বোর্ডারদের ঘর ভাড়া দিচ্ছেন। 
বছর দুয়েক আগে তারাপীঠে সচিত্র পরিচয়পত্র জমা নিয়ে লজ ভাড়া দিতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিয়েছিল পুলিস। প্রতিদিন রেজিস্টারের কপি থানায় জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। সেইসঙ্গে লজের প্রবেশ পথে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। যাতে বোর্ডারদের মুখ স্পষ্ট বোঝা যায়। কিন্তু একাংশের সেসব নিয়ম মানার কোনও বালাই নেই। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। 
যদিও লজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি বলেন, অধিকাংশ হোটেল মালিকই অ্যাসোসিয়েশনের অফিসে রেজিস্টার জমা করে যায়। আমরা সেটা থানায় ফরোয়ার্ড করি। যদি নাও করি, তাহলেও তাঁদের তথ্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে সুরক্ষিত রাখি। ১০ শতাংশ মালিক রেজিস্টার জমা করেন না। তবে সেটা পুলিসের গাফিলতি। অ্যাসোসিয়েশন তো নির্দেশ মানতে কাউকে বাধ্য করতে পারে না।  
যদিও পুলিস জানিয়েছে, বেশিরভাগই লজ ও হোটেল মালিক যাত্রীদের তথ্য সম্পর্কিত রেজিস্টার থানায় জমা করছেন না। সেই বিষয়ে আজ মিটিং ডাকা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ সবাইকে ফলো করতে হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ