Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

জ্ঞানেশকে পদচ্যুত করার নোটিস জমা সংসদের দুই কক্ষে, সই করলেন না সোনিয়া-প্রিয়াঙ্কা

জ্ঞানেশ কুমারকে ‘পদচ্যুত’ করার নোটিস জমা পড়ল সংসদের দু‌ই কক্ষেই। সাংসদের স্বাক্ষর সম্মিলিত ১০ পাতার মূল চিঠির সঙ্গে সইয়ের পাতা আলাদা যুক্ত করে শুক্রবার লোকসভা এবং রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলদের কাছে ওই নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে।

জ্ঞানেশকে পদচ্যুত করার নোটিস জমা সংসদের দুই কক্ষে, সই করলেন না সোনিয়া-প্রিয়াঙ্কা
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৩
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ কুমারকে ‘পদচ্যুত’ করার নোটিস জমা পড়ল সংসদের দু‌ই কক্ষেই। সাংসদের স্বাক্ষর সম্মিলিত ১০ পাতার মূল চিঠির সঙ্গে সইয়ের পাতা আলাদা যুক্ত করে শুক্রবার লোকসভা এবং রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলদের কাছে ওই নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয় এক হলেও দুটি আলাদা নোটিস দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৩২৪ (৫) অনুচ্ছেদকে অবলম্বন করেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করার ওই নোটিস। উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল সংসদীয় দল।

Advertisement

গোড়ায় বিষয়টিকে তারা ‘ইমপিচমেন্ট’ বলে প্রচার করছিল। কিন্তু সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর তা শুধরে নিয়ে ‘রিম্যুভাল ফ্রম দ্য পোস্ট’ বলেই নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুব্যর্বহারের অভিযোগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যেপাধ্যায় যখন দিল্লিতে নির্বাচন সদনে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, দু’বারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার দুব্যর্বহার করেছিলেন বলেই তৃণমূলের অভিযোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞানেশ কুমারের সৌজন্যবোধের অভাব ছিল বলে অভিযোগ। একইভাবে অভিষেক যখন সদলবলে সাক্ষাতে গিয়েছিলেন, তখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ঔদ্ধর্ত্যের আঙুল তুলেছিলেন বলেও দুব্যর্বহারের অভিযোগ রয়েছে। তাই জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরাতে সরাসরি মমতা-অভিষেকের নামোল্লেখ না করলেও ঘটনার উদাহরণ টানা হয়েছে। 
নোটিসের ভাষা মজবুত করতে ২০২৩ সালের অনুপ বারানওয়াল বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া নামে সুপ্রিম কোর্টের মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় নির্দেশ ছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের নির্বাচন করবে তিন সদস্যের কমিটি। যেখানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং দেশের প্রধান বিচারপতি। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় সরকার আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনের ৭ ধারায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার কাঠামো বদলে দেওয়া হয়। নতুন কমিটিতে এখন থাকেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলের নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। যার ফলে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ওপর কেন্দ্রের প্রভাব পড়ে বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। 
এছাড়া এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়ার নামে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, সাংবিধানিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা, পক্ষপাতদুষ্ট, বৈষম্যমূলক আচরণ সহ জালিয়াতির অভিযোগ করে কড়া ভাষায় ওই নোটিসের চিঠি লেখা হয়েছে। লোকসভার চিঠিতে মোট ১৩০ জন সদস্য সই করেছেন। রাজ্যসভার নোটিসে ৬৩ সাংসদ। কংগ্রেস সমর্থন করলেও সই করেননি সোনিয়া বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। গত ৭৫ বছরে দেশে মোট ২৫ জন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন। তবে আজ পর্যন্ত কাউকেই পদচ্যূত করার উদ্যোগ সংসদ পর্যন্ত গড়ায়নি। 

সম্পর্কিত সংবাদ