নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অভিনব স্লোগান-শব্দবন্ধে মঙ্গলবার সংসদে বিহারের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের (এসআইআর) প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড হাতে সোচ্চার হল বিরোধীরা। ‘মোদি স্যার, নো স্যার।’ এসআইআর’কে স্টিলিং ইন্ডিয়ান রাইটস বলেও কটাক্ষ করল তারা। রাহুল গান্ধী বললেন, ‘এসআইআরের আড়ালে বিহারে ভোট চুরি হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে সরব হয়েছি আমরা।’ সংসদ চত্বরে এবং সংসদের মধ্যে এসআইআর ইস্যুতে সংসদ উত্তাল করল বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। লোকসভায় ওয়েলে নেমে চলল বিক্ষোভ। আজ বুধবার রাজ্যসভায় এ ব্যাপারে আলোচনার নোটিসও দিচ্ছে তৃণমূল। একইসঙ্গে বাংলার বঞ্চনা এবং বাংলা-বাঙালিকে অপমানের বিরোধিতাতেও সরব সংসদে।
মঙ্গলবার লোকসভায় এসআইআর ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি বাঙালি হেনস্তার প্রতিবাদে সরব হন মহুয়া মৈত্র, সাজদা আহমেদ, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, শর্মিলা সরকারের মতো তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড। লোকসভার ওয়েলের কাছে নেমে আসেন তাঁরা। স্লোগান তোলেন, ‘বাংলার অপমান মানব না। মানছি না। বাঙালিকে হেনস্তা বন্ধ কর’ তৃণমূল ঠিক করেছে, আগামী দিনে সুযোগ পেলেই সংসদে বাংলায় কথা বলে বিজেপিকে চাপে ফেলবে।
অনড় সরকার। নাছোড় বিরোধীরাও। তাই বাদল অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেও সংসদে জট কাটল না। দফায় দফায় মুলতুবি। বিরোধীদের দাবি, আলোচনা করতে হবে এসআইআর নিয়ে। অন্যদিকে, সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভায় বললেন, আলোচনার জন্য সরকার তৈরি। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও রুল মেনেই তো আলোচনা হবে। আপনারা হাঙ্গামা করলেই তো আর চর্চা শুরু হতে পারে না। সংসদে হাঙ্গামা করে আপনারা দেশের মানুষের টাকা নষ্ট করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
যদিও এরপরেও বিরোধীরা চুপ করেনি। এসআইআর ইস্যুতে এদিন সকালে সংসদের মকর দ্বারের সামনে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিক্ষোভ দেখায় বিরোধীরা। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে পুরনো এবং নতুন সংসদ ভবনের মধ্যের প্রাঙ্গণে সরব হতে দেখা গেল অখিলেশ যাদব, কানিমোঝি, এন কে প্রেমচন্দ্রন, মিসা ভারতী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ বিরোধীদলের নেতানেত্রীদের। ছিলেন তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার, প্রতিমা মণ্ডলও। সভার অন্দরেও চলল বিক্ষোভ। সরকারকে বিরোধীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা, এসআইআর, ডিলিমিটেশন, দলিতদের উপর অত্যাচার, আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা, অশান্ত মণিপুর ইস্যুতে আলোচনা করতে হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ দেখাবে। তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, সরকারই চায় না সংসদ চলুক। আলোচনা কেন এড়াচ্ছে মোদি সরকার? বিহারের এসআইআর বন্ধ করতে হবে। বাতিল করতে হবে অন্যত্র শুরু করার পরিকল্পনাও। নাহলে আমরা প্রতিবাদে সোচ্চার হবই।