Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম বর্ধমানে ৩৪৫টি সমবায়ের মধ্যে মাত্র একটিতে বোর্ড গঠন করল বিরোধীরা

পশ্চিম বর্ধমানে ৩৪৫টি সমবায়ের মধ্যে  মাত্র একটিতে বোর্ড গঠন করল বিরোধীরা
  • ২৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমানের অন্যতম বৃহৎ সমবায় ব্যাঙ্ক রানিগঞ্জ সমবায় ব্যাঙ্কের নিবার্চন আসন্ন। ৫ হাজার ১৬৫ সদস্যের ব্যাঙ্কের গচ্ছিত অর্থ ৫০ কোটিরও বেশি। ন’ বছর পর নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হতেই উত্তাপ বাড়ছে রানিগঞ্জে। যদিও সাম্প্রতিক সমবায় নির্বাচনের ইতিহাসে বিরোধীরা ধুয়ে মুছে গিয়েছে। জেলার ৩৪৫টি সমবায় নির্বাচন হয়েছে সম্প্রতি। যার মধ্যে চিত্তরঞ্জন কো অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি ছাড়া সবক’টি তৃণমূল কংগ্রেসের পছন্দের মেম্বাররাই নির্বাচিত হয়েছেন। সমবায় নির্বাচনের এই সাফল্যকে বিধানসভা ভোটের আগে লিটমাস টেস্টের সাফল্য‌ ঩হিসাবেই দেখছে শাসক শিবির।

Advertisement

সমবায় মন্ত্রী ও তৃণমূল বিধায়ক প্রদীপ মজুমদার বলেন, বেশিরভাগ সমবায়গুলির বোর্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি পেয়ে আমরা একযোগে সমবায় নির্বাচনগুলি করাই, যাতে মানুষের আরও বেশি করে পরিষেবা দেওয়া যায়। তাতে যেভাবে অভূতপূর্ব সাফল্য‌ এ঩সেছে, তা বিধানসভা ভোটের আগে লিটমাস টেস্টের সফল পরীক্ষা বলাই যায়। বিরোধীরা তো বিভিন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেখানেও আমাদেরই জয় হয়েছে। 
সিটুর জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য তথা চিত্তরঞ্জনের শ্রমিক নেতা রাজীব গুপ্ত বলেন, জেলার অন্যত্র তো সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনই হতে দেয়নি। আমরা চিত্তরঞ্জনের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। রেল প্রশাসন ভালো ভূমিকা পালন করেছিল। তাই সাফল্য ঩পেয়েছি। জেলার অন্যত্রও এই পদ্ধতি অবলম্বন করা যায় কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা হবে। 
দুর্গাপুরে মহিলা সমবায় ব্যাঙ্ক নির্বাচন ঘিরে ধুমধুমাক্কার কাণ্ড হয়। বামেরা এসডিও অফিস ঘেরাও করে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হচ্ছে না অভিযোগ তুলে তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। দিনের শেষে, শেষ হাসি হাসে তৃণমূল কংগ্রেসই। তাদের পছন্দের সদস্যরাই বোর্ড গঠন করে বামেদের দখলে থাকা সমবায় ছিনিয়ে নেন। ডিএসপির পিপলস কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্ক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক। সেখানে আবার তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সঙ্ঘবদ্ধভাবে লড়াই করতে দেখা যায় আইএনটিইউসি ও এইচএমএস সদস্যদের। সেখানেও হালে পানি পায়নি সিটুর সদস্যরা। তাঁরা পার্টি অফিসে বসেই অভিযোগে তোলেন, মনোনয়ন জমা করার মতো পরিবেশ ছিল না।  সেখানেই জয়ী হয়েছে শাসক দলের জোট। দুই নির্বাচনের ফলই শাসক শিবিরকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। যেখানে দুর্গাপুরে পুরসভা নির্বাচন না করা নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ শুনতে হয়, সেখানে হাজার হাজার সদস্যের দু’টি ব্যাঙ্কে তৃণমূলের নিরঙ্কুশ জয়লাভকে বড় সাফল্য মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। 
জেলার অন্যত্র সিপিএমের অস্তিত্ব দেখা না গেলেও পঞ্চায়েত ভোট হোক বা বিধানসভা, কিছুটা ভোট রানিগঞ্জে ধরে রেখেছে বামেরা। তাদের জেলার মুখ্য কার্যালয়ও রানিগঞ্জের গির্জা মোড়ে। এবার সেখানে রানিগঞ্জ সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচনে বামেদের অস্তিত্ব মুছে তাদের আরও কোণঠাসা করতে চাইছে তৃণমূল। রানিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা সমবায় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। 
জেলা সমবায় নিবন্ধক ত্রিদিব মণ্ডল বলেন, আমাদের জেলায় ৩৪৫টি সমবায়ের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তারম঩ধ্যে দুটি আরবান ব্যাঙ্কও রয়েছে। রানিগঞ্জ সমবায় ব্যাঙ্কের নির্বাচন দ্রুত করা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ