নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: এগরার নেগুয়া পোস্ট অফিসের নগদ এক লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেলেন পোস্টমাস্টার দেবাশিস জানা। গত ২৭ফেব্রুয়ারি থেকেই ওই পোস্টমাস্টার অফিসে আসছেন না। আগাম ছুটির আবেদন ছাড়াই অফিসে অনুপস্থিতি নিয়ে পোস্টাল বিভাগের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। এরপর দপ্তরের কাঁথি-১ সাব ডিভিশনের ইন্সপেক্টর রাকেশ মণ্ডল ওই পোস্ট অফিস ভিজিটে গিয়ে দেখেন, নগদ টাকাও উধাও। সেই টাকার পরিমাণ ৯৮হাজার ৯০০। গোটা ঘটনায় ওই পোস্টমাস্টারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কাঁথি ডিভিশনের পোস্টাল সুপার ভাগ্যধর দাসের কাছে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা করেছেন পোস্টাল ইন্সপেক্টর রাকেশবাবু। সুপারের নির্দেশে পোস্টাল ইন্সপেক্টর ওই পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে এগরা থানায় এফআইআর করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
Advertisement
রামনগর-১ ব্লকের শঙ্করপুরের বাসিন্দা দেবাশিসবাবু দীর্ঘদিন ধরে ডাকবিভাগে কর্মরত। আগে ডাকবিভাগের এগরা সাব অফিসের অধীন একটি ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪সালের জুন মাসে তিনি সেখান থেকে বদলি নিয়ে পানিপারুল সাব অফিসের অধীন নেগুয়া ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসে জয়েন করেন। গত ২৬ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাভাবিক ডিউটি করেছেন। ওইদিন দুপুরে আচমকা অফিস থেকে বেরিয়ে যান। তারপর থেকেই মোবাইল বন্ধ। ২৭তারিখ থেকে অফিসে আসছেন না। বিষয়টি জানার পরই তড়িঘড়ি পোস্টাল বিভাগের কাঁথির সুপার একজন ইন্সপেক্টরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সেইমতো ২৭তারিখ রাকেশ মণ্ডল ওই ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসে ভিজিটে যান। সঙ্গে ডাকবিভাগের ওভারসিয়ার মানস প্রধান ছিলেন। তদন্তে জানা যায়, ৯৮হাজার ৯০০টাকা উধাও। সেই রিপোর্ট পোস্টাল সুপারের কাছে জমা পড়ে।
সাসপেন্ড হওয়া ওই পোস্টমাস্টারের বাবা অজয়কুমার জানা বলেন, ছেলে মাধ্যমিকে ৮৬.৫শতাংশ নম্বর পেয়েছিল। অঙ্কে একশোয় একশো পেয়েছিল। মাধ্যমিকে ভালো ফলাফলের জন্য ছ’বছর আগে পোস্টাল বিভাগে চাকরি পায়। এখন বয়স ৩২বছর। অনলাইন শেয়ার ট্রেডিং কারবারে জড়িয়ে একেবারে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে। লোকজনের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা দেনা। পোস্ট অফিস থেকে ২লক্ষ ৮২হাজার টাকা সরিয়েছে বলে আমি খবর পাই। সেইমতো ২১ ও ২৪ফেব্রুয়ারি দু’দফায় আমি এগরায় গিয়ে ছেলেকে তিন লক্ষ টাকা দিয়ে এসেছি। ছেলে একটি বাইকে নিয়মিত বাড়ি থেকে অফিস যাতায়াত করে। সেই বাইকও বিক্রি করে দিয়েছে। এখন বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন পাচ্ছি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছেলে ধারবাকি করেছে। কাউকে টাকা শোধ করেনি। রামনগরের এক ব্যক্তির থেকে এক লক্ষ টাকা ধার নিয়েও শোধ না করায় থানায় এফআইআর করে দিয়েছেন। আমি চাষাবাদ করি। সেভাবে রোজগার নেই। শঙ্করপুরে জমি বিক্রি করে ছেলের ধারদেনা মেটানোর পরিকল্পনা নিয়েছি।কাঁথির পোস্টাল সুপার বলেন, ওই পোস্ট মাস্টার ২৬ফেব্রুয়ারি থেকে অফিসে আসছেন না। পোস্ট অফিস থেকে নগদ ৯৯হাজার টাকা খোয়া গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর হয়েছে। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গোটা ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। নেগুয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ কাজল দত্ত বলেন, ওই পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।



