অভিষেক পাল, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের সিম সক্রিয় রয়েছে সুদূর মুম্বইতে। শুধু মুম্বই নয়, মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে হাজার হাজার সিম ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার তো আছেই। এই জেলা থেকে সিম ছড়িয়ে গিয়েছে ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলাতেও। সাইবার অপরাধীদের আঁতুড় ঘরে টাকা ছড়ালেই দেদার মেলে এই ভুয়ো সিম। তবে বাস্তবে ভুয়ো সিম বলা হলেও এগুলি সবই ডকুমেন্টস ব্যবহার করে নেওয়া হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরস কোম্পানিগুলি কোনও সিমই ডকুমেন্টের বাইরে অ্যাক্টিভেট করতে পারেনা। তাই প্রতিটি সিমের অ্যাক্টিভেশনের জন্য একটি করে আধার নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু কোথা থেকে এইসব সিমের আধার পেল জালিয়াতেরা?
Advertisement
জানা গিয়েছে, এই ভুয়ো সিম নেওয়ার জন্য সাইবার জালিয়াতরা শুধুমাত্র অর্থ খরচ করে। মোবাইলের সিম বিক্রেতা বিভিন্ন দোকানদারেরা সিমের যোগান দেয়। কোনও সাধারণ মানুষ বৈধ উপায়ে সিম নিতে গেলে তার ডকুমেন্ট নকল করে তার নামেই অতিরিক্ত সিম অ্যাক্টিভেট করে নেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। তবে আধারের সঙ্গে বায়োমেট্রিক লিঙ্ক শুরু হওয়াতে বেশ ফাঁপরে পড়ে যায় তারা। তাই বছর খানেক ধরে সিম বিক্রেতা রিটেলররা গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে অফার দিতে থাকে। ৫০ টাকায় ফ্রি সিম! একটি সিমে এক মাস কিংবা দুইমাস বিনামূল্যে পরিষেবা ভোগ করতে পারবে উপভোক্তারা। এসব টোপ দিয়ে গ্রামের বধূ ও যুবকদের বেশি পরিমাণে সিম বিক্রি করেছে। সে সময়ই এক একটি সিম অ্যাক্টিভেট করার সময় অধিকাংশ ডকুমেন্ট হাতিয়ে নিয়েছে তারা। সেই ডকুমেন্ট নিয়ে একটি সিম চালু জন্য অনেক সময় দুবার বায়োমেট্রিক নিয়েছে কেউ কেউ। দুবার বায়োমেট্রিক করিয়ে পরপর দুটি সিম অ্যাক্টিভেট করা হয়েছে বলেই মনে করছে পুলিস। একটি সিম ওই উপভোক্তাকে দিয়ে, অপর সিমটি সাইবার প্রতারকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মোটা টাকায়।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে জেলার বহু পয়েন্ট অব সেল রিটেলর তথা পসের নামে অভিযোগ জমা পড়ছে। সেই সমস্ত পসের কোড নম্বর ধরে ধরে আমরা মামলা রুজু করছি। পরবর্তীতে ওই রিটেল পয়েন্টগুলি কারা চালায় সেই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসা করার জন্য ডাকা হবে। কী করে বেনামে এত সিম বাইরে চলে গেল তার উপযুক্ত তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, শনিবার থেকে পরপর প্রায় প্রতিদিনই জেলার প্রায় প্রতিটি থানায় মামলা রুজু করেছে পুলিস। সব থেকে বেশি ভুয়ো সিম ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদ থানা এলাকা থেকে। পাশাপশি, হরিহরপাড়া, বেলডাঙা, শক্তিপুর, রানিনগর, ইসলামপুর, সাগরপাড়া, দৌলতাবাদ থানায় অভিযোগ করে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। রবিবারই ছয়টি থানা এলাকায় ভুয়ো সিম বিক্রি করার অভিযোগে প্রায় একশো পয়েন্ট অব সেল রিটেলর তথা পসের নামে অভিযোগ হয়। সোমবারও খড়গ্রাম ও সালার থানায় অভিযোগ হয়েছে।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে জেলার বহু পয়েন্ট অব সেল রিটেলর তথা পসের নামে অভিযোগ জমা পড়ছে। সেই সমস্ত পসের কোড নম্বর ধরে ধরে আমরা মামলা রুজু করছি। পরবর্তীতে ওই রিটেল পয়েন্টগুলি কারা চালায় সেই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসা করার জন্য ডাকা হবে। কী করে বেনামে এত সিম বাইরে চলে গেল তার উপযুক্ত তদন্ত শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, শনিবার থেকে পরপর প্রায় প্রতিদিনই জেলার প্রায় প্রতিটি থানায় মামলা রুজু করেছে পুলিস। সব থেকে বেশি ভুয়ো সিম ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদ থানা এলাকা থেকে। পাশাপশি, হরিহরপাড়া, বেলডাঙা, শক্তিপুর, রানিনগর, ইসলামপুর, সাগরপাড়া, দৌলতাবাদ থানায় অভিযোগ করে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। রবিবারই ছয়টি থানা এলাকায় ভুয়ো সিম বিক্রি করার অভিযোগে প্রায় একশো পয়েন্ট অব সেল রিটেলর তথা পসের নামে অভিযোগ হয়। সোমবারও খড়গ্রাম ও সালার থানায় অভিযোগ হয়েছে।



