তিরুবন্তপূরম, ৩১ মে: মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পথে কেরল। ‘অপারেশন তুফান: দ্য নার্কো হান্ট’ নামে বৃহৎ এক অভিযান শুরু করতে চলেছে করলের ইউডিএফ সরকার। দক্ষিণ ভারতের অন্যতম বৃহত্তম মাদকবিরোধী অভিযান হিসেবে বিবেচিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য রাজ্যে সক্রিয় মাদক পাচার ও সরবরাহ চক্রকে একদম গোড়া থেকে নির্মূল করা।
সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজ্যের মন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা রবিবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানান মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। কেরল পুলিশ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালনা করবে। মাদক পাচারকারী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার পাশাপাশি সমাজভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপরও জোর দেওয়া হবে। সরকার জানিয়েছে, বিশেষ করে মারাত্মক কিছু মাদকের দ্রুত বিস্তার রোধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তদন্ত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। আন্তঃরাজ্য মাদক চক্র মোকাবিলায় দক্ষিণ ভারতের অন্যান্য রাজ্যের পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। অভিযানের অংশ হিসেবে একটি ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা হবে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ গোপনীয়ভাবে মাদক সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারবেন। এ জন্য মোবাইল অ্যাপ ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় মাদকপ্রবণ ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হবে। এমনকী ড্রোনের মাধ্যমেও চালানো হবে নজরদারি।
এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বিষয়ক তথ্য পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে কেরল সরকার। একই সঙ্গে মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপও নেওয়া হবে। শিশু-কিশোরদের মাদকের প্রভাব থেকে রক্ষার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই অভিযানে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি এবং বিলাসবহুল হোটেল, উপকূলীয় এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদক ব্যবহার বা বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। আগামী ২ জুন তিরুবনন্তপুরমের কটন হিল স্কুলে ‘অপারেশন তুফান’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে তারপর পুরো দমে এর কার্যক্রম চালু করা হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন।