Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

অপারেশন সিন্দুর: করাচি বন্দর থেকে যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে ফেলে ইসলামাবাদ, উপগ্রহ চিত্রে ফাঁস ভারতের ভয়ে পাকিস্তানের কাঁপুনি

গত ৫ মে’র মধ্যরাত। পাকিস্তানের ডিজিএমওকে ফোন করে নয়াদিল্লি জানিয়ে দেয়, অপারেশন সিন্দুর চালিয়ে জঙ্গিদের ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে ভারতীয় সেনা।

অপারেশন সিন্দুর: করাচি বন্দর থেকে যুদ্ধজাহাজ সরিয়ে ফেলে ইসলামাবাদ, উপগ্রহ চিত্রে ফাঁস ভারতের ভয়ে পাকিস্তানের কাঁপুনি
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নয়াদিল্লি: গত ৫ মে’র মধ্যরাত। পাকিস্তানের ডিজিএমওকে ফোন করে নয়াদিল্লি জানিয়ে দেয়, অপারেশন সিন্দুর চালিয়ে জঙ্গিদের ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। ওইদিন পাকিস্তানের কোনও সামরিক ঘাঁটিকে টার্গেট করা হয়নি। যদিও ইসলামাবাদ জানায়, তারা এর পাল্টা জবাব দেবে। কিন্তু এরজন্যে কি আদৌ তৈরি ছিল পাক সেনা? নাকি ভারতের প্রত্যাঘাত থেকে নিজেদের অস্ত্র ভাণ্ডার বাঁচাতেই বেশি তত্পর ছিল ইসলামাবাদ? ৫ মে পরবর্তী সময়ের যে উপগ্রহ চিত্র সামনে এসেছে, তাতে ভারতের ভয়ে পাক বাহিনীর কাঁপুনিই ধরা পড়েছে।  দেখা গিয়েছে, পাক নৌসেনা তাদের আধুনিক যুদ্ধজাহাজগুলিকে ভারতের দিকে পাঠানোর বদলে সেগুলি লুকিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করে। ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স টিম (ওসআইএনটি) নামে একটি সংস্থার ওই উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী, কয়েকটি যুদ্ধজাহাজকে করাচি বন্দরের সামরিক এলাকা থেকে সরিয়ে ফেলে পাকিস্তান।আর বাকি যুদ্ধজাহাজগুলিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় আরও পশ্চিমে ইরান সীমান্ত ঘেঁষা গদর বন্দরে। তবে পাকিস্তানের যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন সেদেশের প্রাক্তন সামরিক কর্তারা। উপগ্রহ চিত্রের ছবি তাঁদের দাবিকেই স্বীকৃতি বলে মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

মে মাসের ১০ তারিখের উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, করাচি বন্দরের যেখানে যুদ্ধজাহাজ থাকার কথা, সেই এলাকা পুরো ফাঁকা। কিন্তু একই সময়ে বন্দরের বাণিজ্যিক এলাকায় পাকিস্তানের বিভিন্ন ক্লাসের ফ্রিগেট ও নজরদারি জাহাজ নোঙর করে রাখা ছিল। যার মধ্যে ছিল পাকিস্তানের সর্ববৃহত্ তুঘরিল ক্লাস ফ্রিগেটও। একই ছবি দেখা গিয়েছে গদর বন্দরেও। সেখানেও সব বাণিজ্যিক জাহাজকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই জায়গা দখল করে পাক যুদ্ধজাহাজ। অথচ ভারতের ক্ষেত্রে ছবিটা পুরো উল্টো। পাকিস্তানে উপর চাপ বাড়াতে আরব সাগরে ক্রমাগত টহল দিচ্ছিল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আইএনএস বিক্রান্ত। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় করাচি বন্দর আক্রমণে অংশ নিয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল এস সি সুরেশ বাঙ্গারা। তাঁর বক্তব্য, অপারেশন সিন্দুর শুরুর পর পাকিস্তানের তিন বাহিনীর ‘ফুল অ্যালার্ট’ থাকার কথা। অথচ পাক যুদ্ধজাহাজের বন্দরেই থেকে যাওয়ার অর্থ একটাই। ইসলামাবাদ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল না। তাঁর মতে, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ থেকে বাঁচতেই বন্দরের বাণিজ্যিক এলাকায় যুদ্ধজাহাজগুলি রাখা হয়। একইভাবে পাকিস্তান তাদের যুদ্ধবিমানগুলিকেও অসামরিক বিমানের সঙ্গেই রেখেছিল। ভারত সেখানে আক্রমণ চালালে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলত ইসলামাবাদ।

সম্পর্কিত সংবাদ