নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আপাতত সংঘর্ষবিরতির সমঝোতা হলেও সন্ত্রাববাদ দমনে কোনও আপস নয়। ফের ভারত বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপ মাথা চাড়া দিলে সীমান্তের সীমাবদ্ধতা মানবেন না মোদি। পোখরান পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের বর্ষপূর্তিতে এই মর্মেই পাকিস্তানকে বার্তা দিয়ে রাখলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারতীয় বায়ুসেনাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, অপারেশন সিন্দুর বন্ধ হয়নি। এক্স হ্যান্ডেলে ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, অপারেশন সিন্দুরে নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হয়ছিল। পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিখুঁতভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছে বায়ুসেনা। দেশের স্বার্থ রক্ষায় ভেবেচিন্তে বিচক্ষণতার সঙ্গেই অপারেশন চলেছে। এরপরই তারা জানিয়েছে, অভিযান এখনও শেষ হয়নি। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতে রবিবারও প্রধানমন্ত্রী তাঁর ৭ লোককল্যণ মার্গের বাসভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। ছিলেন রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং বায়ু, স্থল ও নৌসেনার তিন প্রধান। সেই বৈঠকের পরেই রাজনাথ তোপ দাগলেন।
বললেন, এটা নয়া ভারত। সন্ত্রাসবাদ দমনই লক্ষ্য। তাই জঙ্গি নিকেশে সীমা পেরিয়েও জবাব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির এ ব্যাপারে নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট। আগেও উরির বদলায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, পুলওয়ামার প্রতিশোধে বালাকোট অভিযান হয়েছে। তাতেও পাকিস্তানের শিক্ষা হয়নি। তাই পহেলগাঁওয়ের প্রত্যাঘাতে পাকিস্তানে ঢুকে ন’টি জঙ্গি ডেরা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনাথ সিং বলেন, ভারতীয় সেনার দাপট রাওয়ালপিণ্ডির পাকিস্তান সেনা সদর দপ্তরেও কাঁপুনি ধরেছে। জঙ্গি এবং তাদের মদতদাতারা পালিয়ে বাঁচতে পারবে না।
বিশ্বকে বার্তা দিতে মে মাসেই পোখরানে প্রথম ও দ্বিতীয় পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল ভারত। তাই মে মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রবিবার লখনউতে ছিল ‘ব্রহ্মস এরোস্পেস ইন্ট্রিগ্রেশন অ্যান্ড টেস্টিং ফেসিলিটি’র উদ্বোধন। যাওয়ার কথা ছিল রাজনাথ সিংয়ের। যেতে পারেননি। অনলাইনে নিজের বক্তব্য রাখেন। তোপ দাগেন পাকিস্তানকে। সংঘর্ষবিরতির পরেও পাকিস্তানকে কি সম্পূর্ণ বিশ্বাস করা যায়? এই ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে কেন্ত্রীয় সরকারের মনে। ঘনঘন চলছে পাকিস্তান ইস্যুতে আলোচনা। এদিন সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীও তাঁর বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালায়, তবে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে।