Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

ভূস্বর্গে নরক যন্ত্রণা! হাসপাতাল পৌঁছনোর আগেই দুর্গম পাহাড়ে প্রসূতির গর্ভেই মৃত্যু নবজাতকের

তীব্র প্রসবযন্ত্রণা। তাড়াতাড়ি পৌঁছতে হবে হাসপাতালে। কিন্তু সেই উপায় নেই জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলার দুর্গম মারওয়া উপত্যকায়। স্বাস্থ্য পরিষেবার চরম দুরবস্থা।

ভূস্বর্গে নরক যন্ত্রণা! হাসপাতাল পৌঁছনোর আগেই দুর্গম পাহাড়ে প্রসূতির গর্ভেই মৃত্যু নবজাতকের
  • ৩১ মে, ২০২৬ ১০:৫৩

শ্রীনগর, ৩১ মে: তীব্র প্রসবযন্ত্রণা। তাড়াতাড়ি পৌঁছতে হবে হাসপাতালে। কিন্তু সেই উপায় নেই জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলার দুর্গম মারওয়া উপত্যকায়। স্বাস্থ্য পরিষেবার চরম দুরবস্থা। আর এসবের জেরেই সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে এক গর্ভবতী মহিলার গর্ভেই মৃত্যু হল নবজাতকের।

Advertisement

মৃত শিশুটির মা শাইস্তা বেগম। কিস্তওয়ারের মারওয়া তহসিলের দেহারনা গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার দুপুরে তাঁর প্রসববেদনা শুরু হলে পরিবার দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে। কিন্তু গ্রামে পাকা রাস্তা বা অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা না থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে কাঁধে করে কয়েক কিলোমিটার দুর্গম পাথুরে পথ অতিক্রম করে প্রধান সড়কে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করেন। সেখান থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করে তাঁকে নওয়াপাচির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছে জানা যায়, কোনও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সেই সময় হাসপাতালে নেই। তাই আবার সেখান থেকে সময় নষ্ট না করে পরিবার নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের অনন্তনাগ সরকারি মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। অনন্তনাগ যাওয়ার পথে পড়ে মার্গান পাস, যা বিপজ্জনক বাঁক ও তুষারাবৃত রাস্তার জন্য পরিচিত। স্বাভাবিকভাবেই মে মাসের শেষে সেখানে রাস্তায় বরফ পড়ে থাকায় গাড়ি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কার্যত ব্যর্থ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেই যাত্রাপথেই শাইস্তা বেগমের গর্ভেই শিশুটির মৃত্যু হয়। 

ঘটনার পর শাইস্তা বেগমের স্বামী জানান, ' এখানে প্রতিটি গর্ভধারণই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, নামমাত্র একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে, কিন্তু সেখানে ডাক্তার নেই। প্রসববেদনা শুরু হলে আমরা আমাদের মহিলাদের কাঁধে তুলে নিই এবং প্রার্থনা করি যেন পাহাড় তাদের কেড়ে না নেয়'। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বাস মারওয়া উপত্যকায়। অথচ সেখানে কোনও বিশেষ চিকিৎসা পরিষেবা নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, নওয়াপাচির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বহু গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা হলেও অধিকাংশ সময়ই সেখানে কোনো চিকিত্সক থাকেনা। ফলে গর্ভবতী মহিলাদের নিয়মিতভাবে অনন্তনাগ বা কিস্তওয়ার শহরে পাঠানো হয়, যেগুলি ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত। ফলে অনেক সময় গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতক উভয়েরই রাস্তাতেই মৃত্যু হয়। এমটা অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। শীতকালে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ভারী তুষারপাতের কারণে মার্গান পাস কয়েক মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পুরো উপত্যকাতে কার্যত যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি চিকিৎসা পাওয়া তখন দুস্কর ব্যাপার হয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর এলাকাবাসী মারওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ীভাবে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর দাবি তুলেছেন। 

সম্পর্কিত সংবাদ