Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

অপারেশন সিন্দুর ‘প্রত্যাঘাত’ ২৮ ঠিকানায়, মানল পাকিস্তান

অপারেশন সিন্দুর ‘প্রত্যাঘাত’ ২৮ ঠিকানায়, মানল পাকিস্তান
  • ৪ জুন, ২০২৫ ১২:০৬
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিয়েছে ভারত। ‘অপারেশন সিন্দুর’! প্রথমেই টার্গেট ছিল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ন’টি জঙ্গি ঘাঁটি। তারপর একের পর এক পাকিস্তানি এয়ারবেস। ইসলামাবাদের নাকের ডগায় পাক সেনার গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে প্রত্যাঘাত করেছে নয়াদিল্লি। প্রাথমিকভাবে মোট ২০টি জায়গা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে— এমনটাই দাবি করেছিল ভারতীয় সেনা। যদিও সেই প্রতিশোধের অভিঘাত ছিল আরও বেশি। ২০ নয়, মোট ২৮টি ঠিকানায় ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলেছে। এবার নথি প্রকাশ করে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আনল খোদ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীই। ভারতের প্রত্যাঘাতের পাল্টা ‘অপারেশন বুনওয়ান উন মরসুস’ শুরু করেছিল ইসলামাবাদ। মঙ্গলবার সেই অপারেশনের খুঁটিনাটি তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাতেই আরও আটটি জায়গায় হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে নিয়েছে শাহবাজ শরিফের দেশ। শুধু তাই নয়, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানি বায়ুসেনার ৬টি ফাইটার জেট, দু’টি ‘হাইভ্যালু’ সার্ভিলেন্স এয়ারক্র্যাফ্ট, একটি মার্কিন সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান, ৩০টির বেশি মিসাইল, ১০টিরও বেশি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এর প্রতিশোধ নিতে ৭ মে শুরু হয় ‘অপারেশন সিন্দুর’। প্রত্যাঘাতের পরেই যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে ভারতীয় বায়ুসেনা এবং ডিজিএমও জানায়, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ন’টি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তর বাহওয়ালপুর এবং লস্কর-ই-তোইবার মুরিদকের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির। মার্কিন সংস্থা ‘ম্যাক্সার টেকনোলজিস’-এর প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রেও ধরা পড়েছিল ভারতীয় সেনার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নয়টি এলাকার ছবি। স্থানগুলির মধ্যে ছিল মুজফফরাবাদ, কোটলি, রাওয়ালকোট, চকরী, ভিম্বার, নীলম উপত্যকা, ঝিলাম এবং চকওয়ালের জঙ্গি ঘাঁটি। এর জবাবেই পাকিস্তানের তরফে শুরু হয় হামলা। তাদের ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল টার্গেট ছিল পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত ভারতীয় সেনাঘাঁটি এবং বসতি এলাকা। তারও উপযুক্ত জবাব দেয় ভারত। আক্রমণ শানানো হয় ইসলামাবাদের একদম কাছে নূর খান এয়ারবেসে। এছাড়া করাচি থেকে লাহোর, রাফিকি, সারগোধা, মুরিদ, সুক্কুর, শিয়ালকোট, জেকোবাবাদের মতো শহরে পাক বায়ুসেনার ঘাঁটিতেও চলে প্রত্যাঘাত। এই প্রত্যাঘাতে ভয় পেয়ে সাত তাড়াতাড়ি ভারতকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় ইসলামাবাদ। নয়াদিল্লিও তাতে সায় দেয়। মঙ্গলবার পাক সেনার পক্ষ থেকে প্রকাশিত নথিতে ভারতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির ম্যাপে আগের স্থানগুলির পাশাপাশি আরও আটটি জায়গার নাম রয়েছে। সেগুলি হল, পেশোয়ার, ঝাং, সিন্ধু প্রদেশের হায়দরাবাদ, পাক পাঞ্জাবের গুজরাত, গুজরানওয়ালা, বাহওয়ালনগর, অ্যাটক ও ছোর। পাকিস্তানের এই ‘ডোসিয়ার’ বা নথি নিয়ে মন্তব্য করেনি ভারতীয় সেনা বা কেন্দ্র। 
যদিও পাকিস্তানের এই স্বীকারোক্তি নিয়ে সামরিক মহলে সংশয় রয়েছে। কারণ, নতুন যে জায়গাগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে পাকিস্তানের দাবি, সেই তালিকায় অন্যতম পেশোয়ার ও অ্যাটক। নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলওসি থেকে পেশোয়ারের দূরত্ব প্রায় এক হাজার কিলোমিটার। ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অ্যাটক। এতদূরে হামলা চালানো কি ভারতীয় সেনার পক্ষে সম্ভব? তাছাড়া অতীতে পাকিস্তান কখনও হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেনি। তাহলে এবার এই প্রচার কেন?  বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান এখন নিজেকে আক্রান্ত বলে প্রচার করতে চাইছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে সহানুভূতি কুড়োতেই ইসলামাবাদের এই নতুন ছক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ