Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব বর্ধমানে শুরু হচ্ছে ‘অপারেশন গ্রিন’, পড়ুয়াদের একটি গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক

পূর্ব বর্ধমানে শুরু হচ্ছে ‘অপারেশন গ্রিন’, পড়ুয়াদের একটি গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘যুদ্ধে’র ময়দান তৈরি। যোদ্ধারাও প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে। জয়ী হওয়ার শপথ নিয়েই তারা নামছে। এ যুদ্ধে জিততেই হবে। তা না না হলে আর রক্ষা নেই। তবে এই সংগ্রামে রক্ত ঝরবে না। বরং প্রাণ বাঁচানোর জন্যই শুরু হচ্ছে ‘অপারেশন গ্রিন’। সেনানায়কের ভূমিকায় থাকছেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ। আর যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে জেলার প্রতিটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। তাদেরকে সহযোগিতা করবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বৃহস্পতিবার স্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলাশাসক। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক বলেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছে। প্রতি বছর গ্রীষ্মে রোদের তেজ বেড়েই চলছে। পথে বেরনোই দায় হয়ে উঠছে। প্রকৃতির এই রোষ থেকে রক্ষা পেতে আমাদের গাছ রোপণ করতেই হবে। স্কুলের পড়ুয়ারা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গাছ কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ করার দরকার হবে না। এই সময় প্রতিটি বাড়িতেই পাতে আম ওঠে। সেই আমের আঁটি গ্রামের কোনও এক ফাঁকা জায়গায় বসাতে হবে। তবে শুধু তা বসালেই হবে না। গাছটি যাতে বড় হয় তারজন্য নজরদারি চালাতে হবে। গ্রামের বাঁশঝাড় বা অন্য গাছের ডাল ভেঙে বেড়া তৈরি করা হবে। যে স্কুল এই কাজে অগ্রণী ভূমিকা নেবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আম ছাড়াও তালগাছও রোপণ করা যেতে পারে। তালের আঁটি গ্রামের যেখানে সেখান ফেলে দেওয়া হয়। তা সংগ্রহ করেই গাছ রোপণ করা যাবে। সামনেই বর্ষার মরশুম। এই সময়েই গাছ রোপণ করার আদর্শ সময়। প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রতিটি মহকুমার শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করা হয়। এদিন কাটোয়া মহকুমার আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। কাটোয়ার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈনও উপস্থিত ছিলেন। 
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটা খুব ভালো উদ্যোগ। প্রতিটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে এলে জেলা সবুজ হয়ে উঠবে। এক্ষেত্রে আমাদের জেলা মডেল হয়ে উঠবে। ছাত্রছাত্রীদের একটু উৎসাহিত করলে তারা এই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে। সবাই একসঙ্গে এই কাজ করলে আগামী প্রজন্ম সুরক্ষিত থাকব। গ্রামের বহু জায়গা ফাঁকা পড়ে থাকে। সেখানে একটি আমের আঁটি পুতে দিলেই গাছ বেড়ে উঠবে। আর কিছুদিন পর তাল পাকতে শুরু করবে। তখন সহজেই আঁটি সংগ্রহ করা যাবে। জেলাশাসক বলেন, প্রকৃতির রোষ থেক মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে এই যুদ্ধে জিততে হবে। ছাত্রছাত্রীরাই পরিবেশ রক্ষা করবে। আধিকারিকরা বলেন, দেদার গাছ কাটার প্রতিশোধ নিচ্ছে প্রকৃতি। গরম বাড়ছে। সময়ে বর্ষা হচ্ছে না। এই অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে অপারেশন গ্রিন সফল করতেই হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ