নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে মেধা রূপমের মামলা কেন রোস্টার না মেনে সুপ্রিম কোর্টের অন্য বেঞ্চে পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আইনজীবীদের একটি সংগঠন। ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন (এলএএফসি) নামে ওই সংগঠনটি বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, মেধার মামলাটি বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়েছে। অথচ রোস্টার অনুযায়ী, সতর্কতামূলক আটক এবং হেবিয়াস কর্পাস সংক্রান্ত মামলাগুলি অন্য ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা। তাহলে কি বিশেষ কোনো নির্দেশে বেঞ্চ বদলে দেওয়া হয়েছে? এছাড়া মেধার মামলা শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের অডিয়ো ‘মিউট’ এবং ওই ভিডিয়োর অ্যাকসেস সাংবাদিকদের না দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আইনজীবীদের সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, এভাবে ডিভিশন বেঞ্চ বদলে দেওয়ার ঘটনায় মনে হচ্ছে যে, মেধা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। এতে ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন হতে পারে। জ্ঞানেশ-কন্যা হওয়ার সুবাদে মামলায় আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) আটক করার নির্দেশ দিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক মেধা। তাঁর সেই নির্দেশ বাতিল করে হাইকোর্ট। মেধাকে নিজের বেতন থেকে আকৃতিকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মেধা।
এলএএফসি তাদের চিঠিতে জানিয়েছে, গত ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের যে রোস্টার চালু হয়েছে, তাতে সতর্কতামূলক আটক এবং হেবিয়াস কর্পাস সংক্রান্ত মামলা প্রথম চারটি বেঞ্চে যাওয়ার কথা। সেই অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি বি ভি নাগরত্না অথবা বিচারপতি এম এম সুন্দরেশের বেঞ্চে মেধার মামলার শুনানি হত। এছাড়া মূল যে ঘটনার জন্য মেধার নাম সামনে এসেছে, নয়ডার সেই শ্রমিক বিক্ষোভ সংক্রান্ত মামলাও এর আগে বিচারপতি নাগরত্নার বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। তাহলে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মেধার মামলা কেন বিচারপতি শর্মার ডিভিশন বেঞ্চে পাঠানো হল? আইনজীবী সংগঠনটি জানিয়েছে, মামলা বণ্টন এবং রোস্টার মেনে চলার সঙ্গে মানুষের আস্থা জড়িয়ে রয়েছে।