Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্য মহিলাকে মা সাজিয়ে ভাইয়ের জমি হাতানোর নালিশ, ভূমিদপ্তরের ভূমিকায় প্রশ্ন

অন্য মহিলাকে মা সাজিয়ে ভাইয়ের জমি হাতানোর নালিশ, ভূমিদপ্তরের ভূমিকায় প্রশ্ন
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: অন্য মহিলাকে মা সাজিয়ে ভাইয়ের জমি হাতানোর অভিযোগ উঠল দাদার বিরুদ্ধে। ভুয়ো কাগজপত্র দেখিয়ে বিএলআরও থেকে জমির সরকারি রেকর্ড পরিবর্তনও করে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। রানাঘাট ১ ব্লক ভূমিদপ্তরের অফিসে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কীভাবে হঠাৎ করেই কাগজে কলমে বদলে গেল জমির চরিত্র? প্রশ্ন উঠেছে বিএলআরও অফিসের ভূমিকা নিয়েও। 
Advertisement
নদীয়ার বীরনগর এলাকার বাসিন্দা নিখিলকুমার বসাক নামে এক ব্যক্তি ২৯ নভেম্বর এই অভিযোগ দায়ের করেছেন বিএলআরও অফিসে। তাঁর অভিযোগ, বীরনগরের ১৯ নম্বর মৌজায় ৩৩৮ দাগ নম্বরে তাঁর এবং তাঁর মায়ের নামে যৌথ সম্পত্তি হিসেবে একটি জমি রয়েছে। এমনকী সেই জমির আইনি অংশীদার তাঁর স্ত্রীও। কিন্তু সম্প্রতি তিনি সরকারি পোর্টালে জমি নিয়ে তথ্য তালাশ করতে গিয়ে দেখেন, রেকর্ডে তাঁদের সঙ্গে মালিকানায় নাম ঢুকে গিয়েছে তাঁর দাদা বুদ্ধিশ্বর বিশ্বাসেরও। অফিসে জমা করা তথ্য অনুযায়ী, দলিলের ডিড ২০৪৪ অনুযায়ী ০.১৪০০ শতক জমি দাদা বুদ্ধিশ্বরের নামে নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছে। যদিও মায়ের করা একটি দানপত্র তুলে ধরে ওই ব্যক্তির দাবি, জমির দানপত্রে তাঁর মা যশোদা বিশ্বাস আর কাউকেই সম্পত্তি দেননি। তাহলে কীভাবে হল এই গন্ডগোল? অভিযোগ দায়ের করে নিখিল বিশ্বাসের দাবি, অন্য এক মহিলাকে মা সাজিয়ে এই বেআইনি কাজ করেছে বুদ্ধিশ্বর। তিনি বলেন, একটি সরকারি দপ্তর থেকে কীভাবে হল এই বেআইনি কাজ? অথচ আমাদের নামেই সমস্ত কাগজপত্র রয়েছে। রেজিস্ট্রি হয়ে রয়েছে। আমি গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চাইছি। 
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল বুদ্ধিশ্বরের ছেলে সুমিত বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঠাকুরদা বেঁচে থাকতেই ওই জমি বাবাকে লিখে দিয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ঠাকুরদার মৃত্যুর পর ঠাকুরমা অসুস্থ থাকাকালীন কাকা ভুল বুঝিয়ে ঠাকুরমার থেকে প্রায় ৫ কাঠা জমি লিখিয়ে নেয়। এখন কাকাই উল্টে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছে। কাউকে নিজের মা সাজিয়ে জমির রেকর্ড বদলে নেওয়ার মতো ঘটনাই ঘটেনি।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রানাঘাট ১ ব্লকের ভূমি দপ্তরের এক আধিকারিক অমিয়কুমার বিশ্বাস বলেন, এই বিষয়ে আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। প্রসঙ্গত, রানাঘাট ১ ব্লকে এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন ভুয়ো কাগজপত্র বানিয়ে অথবা কাল্পনিক লোক খাড়া করে একাধিক জমির রেকর্ড পরিবর্তন এবং হস্তান্তর হয়েছে বলে একাধিকবার ব্লক অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। মাঝে এই ধরনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বেশ বড়সড়ো আন্দোলন হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সেই আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যদিও এতদিন বাদেও যে একই ঘটনা ঘটে চলেছে তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই অভিযোগ। যদিও তদন্তে কী সত্য উঠে আসবে সেই দিকেই তাকিয়ে দু’ পক্ষ।
সম্পর্কিত সংবাদ