Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাপের বাড়িতে, প্রেমিকা নিয়ে চম্পট যুবক

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাপের বাড়িতে, প্রেমিকা নিয়ে চম্পট যুবক
  • ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাপের বাড়ি যেতেই ক্লাস নাইনের ছাত্রীকে নিয়ে চম্পট দিয়েছিল যুবক। শুক্রবার ওই যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ঘটনাটি ভূপতিনগর থানার মাধাখালির। উদ্ধার করা হয়েছে নাবালিকাকেও। ধৃতের নাম শেখ ফারুখ। এদিন, ধৃত যুবককে কাঁথি এসিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। ওই নাবালিকা গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। আপাতত তাকে হোমে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর ২১ বছরের শেখ ফারুখ পুলিসের কাছে অদ্ভুত বায়না ধরে—অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং নাবালিকা, দু’জনের সঙ্গেই সে সংসার করবে। পুলিস চোখ রাঙিয়ে ধমক দিতেই চুপ করে যায় ফারুখ। নাবালিকার পরিবার যুবকের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, ধৃত ফারুখ কেরলে একটি জুতোর দোকানে কাজ করে। তিন বছর আগে ভগবানপুর থানার কোটবাড় গ্রামের এক যুবতীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় এক সপ্তাহ আগে বাপের বাড়ি যান। এই সময়ের মধ্যেই ফারুখের সঙ্গে নিজের পাড়ার ক্লাস নাইনের এক ছাত্রীর সম্পর্ক তৈরি হয়। ২৩ ডিসেম্বর ওই নাবালিকাকে ফুসলিয়ে ফারুখ এলাকা ছেড়ে চলে যায়। নাবালিকার পরিবার ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেন। এদিকে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা দায়ের করে। এভাবে ফারুখের বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর দায়ের হয়।
ফোনের সূত্র ধরে শুক্রবার ভোরে মারিশদা থানার কালীনগর থেকে পুলিস ফারুখকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় নাবালিকাকে। ধৃত যুবক কোর্টে যেতে চাইছিল না। ক্লাস নাইনের ওই ছাত্রীকে সে বিয়ে করে দুই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করবে বলে পুলিসকে জানায়। থানায় বসে এরকম আবদার শুনে পুলিস শাসায়। ভয় পেয়ে যায় ফারুখ। নাবালিকা ও ফারুখ দু’জনকেই আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। নাবালিকা সেখানে গোপন জবানবন্দি দেয়। ফারুখকে নিজেদের হেফাজতে নিতে আবেদন জানায় পুলিস। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
ওই নাবালিকার মা বলেন, মেয়ে এবার দশম শ্রেণিতে উঠবে। মাত্র ১৫ বছর বয়স। মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে ফারুখ নিয়ে চলে গিয়েছিল। ২৩ তারিখ ওই ঘটনার পর আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। থানায় অভিযোগ করেছি। কিন্তু, কিছুতেই দু’জনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বউমা সন্তানসম্ভবা। এই সময় একজন স্বামীর উচিত স্ত্রীর পাশে থাকা। ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। 
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে ভূপতিনগরে নাবালিকা পালানোর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বছর শুধুমাত্র ওই থানায় ১৬০ জন নাবালিকা পালানোর ঘটনা ঘটে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাবালিকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিস। কয়েকটি ক্ষেত্রে নাবালিকা অপহরণে জড়িত যুবকদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, আমরা মাধাখালির ঘটনায় নাবালিকা উদ্ধার করেছি। অভিযুক্ত যুবককেওs গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ