Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনুপ্রবেশের সেফ করিডর মুর্শিদাবাদ, ধৃত বাংলাদেশি

অনুপ্রবেশের সেফ করিডর মুর্শিদাবাদ, ধৃত বাংলাদেশি
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের লালগোলা থেকে সোমবার রাতে ফের এক বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়। ধৃত সোহেল রানার বাড়ি রাজশাহির গোদাগাড়িতে। সে সাতবছর আগে ভারতে ঢুকে লালগোলার আটরশিয়ার রামনগরে থাকতে শুরু করেছিল। ধৃতের কাছ থেকে ভুয়ো আধার কার্ডও উদ্ধার হয়েছে। সোহেলকে এদেশে ঢুকতে ও ভুয়ো আধার কার্ড বানিয়ে থাকতে সাহায্য করেছিল, এমন দু’জনকেও পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। তারা হল শাহারুল মোল্লা ও আসিউল ইসলাম ওরফে হানিফ। শাহারুলের বাড়ি জলঙ্গির দয়ারামপুরে। হানিফের বাড়ি লালগোলার বালিগ্রামে।
Advertisement
রবিবার রাতে পুলিস শওকত শেখ নামে আরও এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছিল। তার বাড়িও বাংলাদেশের রাজশাহির গোদাগাড়ি থানা এলাকায়। সেখানকার দিয়ার মানিকচকের জামাইপাড়ার বাসিন্দা সে। শওকত লালগোলার চাটাইডুবির এক বাসিন্দার বাড়িতে উঠেছিল। মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থেকে জঙ্গিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর লালগোলায় পরপর দু’দিন বাংলাদেশি যুবকদের গ্রেপ্তারির ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
মুর্শিদাবাদের পুলিস সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব বলেন, আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তার মধ্যে একজন বাংলাদেশি। বাংলাদেশ থেকে কীভাবে সে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে, সেবিষয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিস জানিয়েছে, সোমবার লালগোলা স্টেশনের কাছ থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ভুয়ো আধার কার্ডও তৈরি করেছিল। বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে জাল পরিচয়পত্র বানিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশিরা। লালগোলা থেকে জাল আধারকার্ড তৈরি করা হচ্ছে। সোহেল লালগোলার আটরশিয়ার ঠিকানা দিয়ে নতুন আধার কার্ড বের করে নেয়। সেখানে তার বাবা ও মায়ের নামের জায়গায় স্থানীয় আবদুল রশিদ ও শেফালি বিবির নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। যদিও তার প্রকৃত বাবা-মায়ের নাম সাইফুল ইসলাম ও জুলেখা বিবি। তারা বাংলাদেশের বাসিন্দা।
প্রায় সাতবছর আগে ভারতে এসে লালগোলার এক যুবতীকে বিয়ে করে সোহেল। তারপর এখানেই সংসার পেতে বসে। সংসার চালানোর জন্য চেন্নাই সহ দক্ষিণ ভারতের অনেক জায়গায় রাজমিস্ত্রির ঠিকা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যায়। পুলিসের অনুমান, দক্ষিণ ভারতে কাজে গিয়েই প্রথমে একটি আধার কার্ড তৈরি করেছিল সোহেল। সম্প্রতি সোহেল আধার কার্ডে তার ঠিকানা বদলে চেন্নাইয়ের পরিবর্তে লালগোলার আটরশিয়ার নাম দিয়েছিল। বেআইনিভাবে তার আধার কার্ডের এই ঠিকানা বদলে দিয়েছিল হানিফ। লালগোলার বালিগ্রাম থেকে হানিফকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। সে ওই এলাকার একটি কিয়স্ক চালায়। সীমান্ত পেরোনোর সময় সোহেলকে সহযোগিতা করেছিল শাহারুল। অভিযোগ, সে মোটা টাকার বিনিময়ে বহু বাংলাদেশিকে এদেশে ঢুকিয়েছে। পুলিস তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ