নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘বছরের পর বছর শুধু তদন্ত প্রক্রিয়া চলতে পারে না। অভিযুক্ত সমাজের চোখে বছরের পর দোষী হয়ে থেকে যাবেন, এটাও কাম্য নয়। লেটস ডু ইট। মামলায় নির্দিষ্ট সময়ে চার্জগঠন করে আমি এই বার্তাটাই দিতে চাই’। ২৫ নভেম্বর কয়লা পাচার মামলার চার্জ গঠনের চূড়ান্ত দিন ধার্য করে তৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন আসানসোল সিবিআই আদালতের বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী। সোমবারই কয়লা পাচার কাণ্ডের শেষ শুনানিতে এই মন্তব্য করেন তিনি। চার্জ গঠনের পর বহু প্রতীক্ষিত কয়লা পাচার মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ২০২০ সাল থেকে কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। ২০১৫ থেকে ২০২০ এই ছ’বছরে খনি অঞ্চল থেকে কয়লা লুটের তদন্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বহু আলোড়ন পড়েছে। তারপর বেশকিছুটা সময় মামলা ঠাণ্ডা ঘরে চলে যায়। একাধিকবার সিবিআইকে ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে এই আদালতে। তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে বারবার উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিচারক। তদন্তের শ্লথ গতিতে অনেক কয়লা মাফিয়া বাড়তি অক্সিজেন পাচ্ছিল। কিন্তু পুজোর আগে থেকে আসানসোল সিবিআই আদালতের বিচারক মামলার ট্রায়াল শুরু করতে উদ্যোগী হন। চার্জগঠন প্রক্রিয়া যতটা দ্রুত করা যায় তা নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়। শনিবার সিবিআই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী কী ধারায় চার্জগঠন হবে তার প্রস্তাব দেয়। এদিন সেই প্রস্তাবের বিপক্ষে আপত্তি জানায় অভিযুক্তদের আইনজীবীরা। আইনজীবী শেখর কুণ্ডু বলেন, এমন একশো জনকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে যাঁদের কাছ থেকে কোনও স্টেটমেন্টই রেকর্ড করা হয়নি। তাঁরা কীভাবে সাক্ষী হিসেবে গ্রাহ্য হবে? অন্য আইনজীবী সোমনাথ চট্টোরাজ বলেন, ২১ মাইন ও মিনারেল অ্যাক্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধার্য করতে চাইছে সিবিআই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ না করে এই ধারা রুজু হতেই পারে না। সিবিআই তা জানে না? এদিন সওয়াল-জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন, চোরাই কয়লা উদ্ধার হয়েছে রেলওয়ে সাইডিং থেকেও। তখনই অভিযুক্তর আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন তাহলে রেলের কোনও কর্মী, আধিকারিক অভিযুক্তদের তালিকায় নেই কেন। একদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা তীব্র ভাষায় সিবিআইয়ের ধারা প্রয়োগের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে বিচারক সিবিআইয়ের অনন্তকাল ধরে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। শুধু কয়লা পাচার কাণ্ডই নয়, সারদা মামলা সহ আরও একাধিক মামলায় সিবিআইয়ের আঠারো মাসে বছরের অভিযোগ রয়েছে। সিবিআই অভিযুক্ত করা মানেই সমাজের চোখে যে দোষী হয়ে যাচ্ছেন অনেক মানুষ, এদিন আদালত কক্ষে তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন রাজেশবাবু। তাই আইনজীবীদের একাংশ চার্জগঠন নিয়ে তাঁর কেন এত তাড়া তা নিয়ে ঘুরিয়ে প্রশ্ন তুলতেই বিচারক নিজে জানিয়ে দেন তিনি কী বার্তা দিতে চান।



