সংবাদদাতা, লালবাগ: বনদপ্তরের অনুমতির বেশি আমগাছ কাটার অভিযোগ উঠল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। নিয়াজউদ্দিন শেখ নামে ওই কংগ্রেস নেতা গত বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা থেকে হাত প্রতীকে লড়াই করেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয় বনদপ্তরের আধিকারিক ছুটে আসেন এবং একটি জেসিবি বাজেয়াপ্ত করেন। কংগ্রেস নেতার গাছ কাটার খবর জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। যদিও কংগ্রেস নেতা নিয়াজউদ্দিন শেখ বনদপ্তরের অনুমতির অতিরিক্ত গাছ কাটার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বনদপ্তর থেকে সাতটি আমগাছ কাটার অনুমতি নিয়েছিলাম। আমি বিশেষ কাজে বাইরে ছিলাম। লেবাররা ভুলবশত অতিরিক্ত কয়েকটি গাছ কেটে ফেলেছে। বহরমপুর উত্তর রেঞ্জের (লালবাগ) আধিকারিক সপ্তমী সরকার বলেন, অনুমতির অতিরিক্ত গাছ কাটা হয়েছে খবর পেয়ে ছুটে যাই। প্রমাণ লোপাটের জন্য জেসিবি দিয়ে অতিরিক্ত গাছগুলির গোড়া তুলে ফেলে উপরে মাটি বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কেটে ফেলা অতিরিক্ত গাছগুলির গুড়ি সহ সমস্ত ডালপালা রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ থানার নতুনগ্রাম পঞ্চায়েতের পুরাতন কারবালা এলাকায় কংগ্রেস নেতা নিয়াজউদ্দিন শেখের একটি আম বাগান রয়েছে। সম্প্রতি তিনি বাগানের সাতটি আমগাছ কাটার জন্য বনদপ্তরের অনুমতি নেন। অভিযোগ, বনদপ্তরের অনুমতির থেকেও বেশ কয়েকটি গাছ বেশি কাটা হয়। এদিকে কংগ্রেস নেতার ভুল করে লেবাররা কেটে ফেলেছে এই সাফাই মানতে নারাজ শাসক থেকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। তৃণমূল নেত্রী শাওনি সিংহ রায়বলেন, ওঁর স্ত্রী পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। উনি গত বিধানসভায় কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন। সুতরাং, ওঁর সাফাই সত্যি হাস্যকর। আমি নিশ্চিত প্রশাসন এই বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ করবে। মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, কংগ্রেস, তৃণমূল মিলেমিশে প্রাচীন আমবাগানগুলি সাফাই করছে। অথচ সাধারণ মানুষকে বোকা বানাতে দুই দলের নেতৃত্ব একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের নাটক করছে। কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রসঙ্গত, মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে নবাবের শহর থেকে প্রাচীন আমবাগানগুলি সাফ হয়ে যাচ্ছে। অথচ স্থাপত্য নিদর্শনগুলির পাশাপাশি শতাব্দী প্রাচীন আমবাগানগুলি দেখতেও দেশ বিদেশের পর্যটকরা আসেন। কিন্তু মুর্শিদাবাদের অন্যতম ঐতিহ্য আমবাগানগুলির অস্তিত্ব সঙ্কটে।



