নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘড়িতে বেলা সাড়ে বারোটা। ভিড় জমছে হাতিবাগান বাজারে। তবে রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে বা ফুটপাতের ডালাগুলির আশপাশে তেমন ভিড় নেই। লোকজন বেশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শপিং মলে। শুক্রবার সকাল থেকে শহরে মেঘলা আকাশ কখনও, কখনও রোদের ঝিলিক। ভ্যাপসা গরম সর্বত্র। তবে তা থোড়াই কেয়ার। হাতিবাগান থেকে গড়িয়াহাট, ধর্মতলা থেকে গড়িয়া, পুজোর কেনাকাটা অল্পবিস্তর চলতেই থাকল।
তার মধ্যে যদিও ভিন্ন সুর। ‘তেমন ভিড় জমল কোথায়? বিক্রিবাটার অবস্থা খুব একটা ভালো যে হচ্ছে, তেমনটা তো নয়’-আক্ষেপ হাতিবাগানের বহু ব্যবসায়ীর। এদিকে হাতে আছে আর মাত্র দু’টি শনি-রবি। ব্যবসায়ীদের আশা, বৃষ্টি না হলে শেষ দু’সপ্তাহে পুজোর বাজার গতি পাবে। এক দোকানদারের কথায়, ‘আবার বৃষ্টি শুরু হলে লাটে উঠবে ব্যবসা। মা আসার আগে বর্ষাসুরকে যেন বধ করে আসেন। তাহলেই হবে লক্ষ্মীলাভ।’ অন্যদিকে নিউমার্কেটে ‘বাজারের খবর জবর’ বলে জানালেন দোকানদাররা। আর গড়িয়াহাটের ব্যবসায়ীদের দাবি, ‘ভিড় হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি তেমন হচ্ছে কই।’
সবমিলিয়ে দুর্গাপুজোর দিন কুড়ি আগেও ‘পুজোর বাজার জব্বর নয়,’ দাবি ব্যবসায়ীদের। হাতিবাগানে রেডিমেড কাপড়ের দোকান রঞ্জন রায়ের। তিনি বলেন, ‘ভিড় মোটামুটি হচ্ছে। সকালের দিকে বা দুপুরের দিকে লোকজন কম আসে। দুপুরের পর আবার ভিড় বাড়ে।’ তাঁর বক্তব্য, ‘গতবছর আরজি কর নিয়ে প্রতিবাদের মধ্যেও পুজোর মাসখানেক আগে বাজার চাঙ্গা হয়েছিল। এবার পুজোর তিন সপ্তাহ আগেও সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমরা আশা করছি এই উইক এন্ড থেকে বাজার জমবে। আর বৃষ্টি না হলে শেষ দু’সপ্তাহে লক্ষ্মী আসবে ঘরে।’ হাতিবাগানের অন্য এক দোকানদার কেশব দাস বলেন, ‘বাজার খুব খারাপ নয়। লেনদেন মোটের উপর ভালোই হচ্ছে। তবে খুব ভালো যে হচ্ছে তা বলব না। আর দু’সপ্তাহ পরই পুজো। বৃষ্টি না হলে শেষের দিকে যদি বিক্রি লাফিয়ে বাড়ে তো ভালো। সেই আশাতেই আছি।’
নিউমার্কেটে ছবিটা একেবারে উল্টো। সেখানে সকাল থেকেই পা ফেলার জায়গা নেই। বেচাকেনা ভালোই চলছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। কিন্তু গড়িয়াহাটের ব্যবসায়ীদের দাবি, পুজোর বাজার গত ক’বছর ধরে ঝিমোচ্ছে। করোনার পর থেকেই লেনদেন কমছে। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের দাবি, লক্ষণ ভালো নয়। অনলাইন মার্কেট শুইয়ে দিয়েছে। তিন-চার বছর আগেও পুজোয় যা বিক্রি হতো এখন তা হয় না। খুচরো ব্যবসা সমস্যায় পড়েছে। হোল সেলাররা অবশ্য লাভবান হচ্ছেন।’ মেয়েদের রেডিমেড কাপড়ের দোকান চন্দন রক্ষিতের। তাঁর কথায়, ‘দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাল তুলেছি। নানা রকমের স্টক। কিন্তু দিনে যদি ১০-১২ হাজার টাকার বিক্রি না হয়, তাহলে সামলাব কিভাবে? হোল সেলাররা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবসা পুষিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু আমাদের মত রিটেলাররা সমস্যায় পড়ছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যবসা করে এক লক্ষ টাকার মালও বেচতে পারিনি।’