নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আরামবাগ মহকুমার ছয় ব্লক ও এক পুরসভার জন্য দুজন মাত্র খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক। খাদ্যে ভেজালের নজরদারি নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। অতিরিক্ত আধিকারিক নিয়োগ না হলে নিয়মিত নজরদারি কার্যত অসম্ভব বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের। তাই অন্যান্য ব্লক ও পুরসভাগুলিতে আধিকারিক নিয়োগের আর্জি জানাচ্ছেন অনেকেই। তবে কর্মী, আধিকারিক নিয়োগ নিয়ে বিগত তৃণমূল সরকারকেই আক্রমণ করছে শাসকদল।
এই ব্যাপারে সিপিএমের হুগলি জেলা কমিটির সদস্য পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ব্লক পিছু একজন করে খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক থাকা আবশ্যক। নইলে আরামবাগ মহকুমার মতো বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি সম্ভব নয়। ২০১১ সাল থেকে নিয়োগ হয়নি। তবে এখন খাদ্যে ভেজাল ধরার নামে ছোটো কারবারিদের হয়রান করা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যার শিকড়ে পৌঁছানো যায়নি।
পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, পর্যাপ্ত খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক নিয়োগ করনি বিগত তৃণমূল সরকার। নতুন সরকার চার মাসের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে কীভাবে নিয়োগ করবে? তবু আমরা বিষয়টি নজরে রেখেছি। ধাপে ধাপে নিয়োগ হবে সব দপ্তরেই। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মেগা অভিযানে নানা সাফল্যও পাওয়া যাচ্ছে।
তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন যুব সভাপতি পলাশ রায় বলেন, আমাদের সরকারের সময়ই খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরে কর্মী নিয়োগ হয়েছিল। তাঁরাই এখন কাজ করছেন। বর্তমানে সরকারকে আরও বেশি করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা উচিত।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে আরামবাগ মহকুমার ছ’টি ব্লক ও পুরসভার জন্য মাত্র দুজন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক রয়েছেন। তাও আবার আরামবাগ পুরসভা এলাকায় তার কোনো দপ্তর নেই। পৃথক দুজনের কাঁধে রয়েছে আরামবাগ পুরসভা, খানাকুল ১, খানাকুল ২ ও পুরশুড়া ব্লকের দায়িত্ব। অন্য জনের হাতে রয়েছে আরামবাগ এবং গোঘাট ১ ও ২ ব্লকের দায়িত্ব। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের অধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ অভিযান করেন। আরামবাগ শহর সহ গ্রামাঞ্চলের বহু দোকানে খাবারে নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। বিরিয়ানিতে রংয়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। একইসঙ্গে মিষ্টিতে দোলের রংও পাওয়া যায়। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা অভিযানের সময়ই বহু খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করে দেন। এছাড়া বহু খাদ্য সামগ্রী বাজেয়াপ্তও করেন। একাধিক দোকান বন্ধের নির্দেশও দেন। বিভিন্ন খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। তারমধ্যে আরামবাগের একটি রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানির পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এসেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের।
সেই খাবার নিম্নমানের বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এক খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক বলেন, আমরা নিয়মিত খাবারের দোকানগুলি পরিদর্শন করছি। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র