অভিষেক পাল, হরিহরপাড়া: হরিহরপাড়ায় বিধায়ক তহবিলের প্রায় ১০০শতাংশ টাকা উন্নয়নের কাজে খরচ করেছেন নিয়ামত শেখ। তহবিলে আর মাত্র ৩৫০টাকা পড়ে আছে। তথ্য দিয়ে সেই তালিকা প্রকাশ করেছেন বিধায়ক। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, আলো, সৌন্দর্যায়ন, বাজারহাটের উন্নতি হয়েছে। আরো বেশকিছু কাজের ওয়ার্ক অর্ডার বেরিয়ে গিয়েছে।
বিভিন্ন কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, রামকৃষ্ণপুর চৌমাথা মোড় থেকে জগন্নাথপুরের দিকে একটি কংক্রিটের রাস্তা তৈরি। এজন্য ৩০লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। হরিহরপাড়ার একটি কলেজে ৯লক্ষ ৯৭হাজার টাকায় জেনারেটর দেওয়া হয়েছে। হরিহরপাড়া বাজারের কর্মতীর্থের পিছনে সবজি বিক্রেতাদের জন্য স্থায়ী শেড করা হয়েছে। হরিহরপাড়া মৎস্য বাজারের পিছনদিকে স্থায়ী কংক্রিট শেড করা হয়েছে। এই দু’টি শেডের জন্যই আটলক্ষ করে টাকা খরচ হয়েছে।
এছাড়া, মণ্ডলপাড়ায় ১০লক্ষ টাকায় একটি কংক্রিটের রাস্তা হয়েছে। ৩০টির বেশি স্কুল ও মাদ্রাসার গেট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গেটের জন্য প্রায় দেড়লক্ষ টাকা খরচ করেছেন বিধায়ক। ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হাইমাস্ট এলইডি আলোর ব্যবস্থা হয়েছে।
হরিহরপাড়া থানায় রুফটপ সোলার হাইব্রিড পাওয়ার প্লান্ট বসানো হয়েছে। এজন্য প্রায় ২০লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এই কাজের কিছুটা বাকি আছে। হরিহরপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমার্জেন্সি কেয়ার ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। এজন্য বিধায়ক তহবিলের ৯লক্ষ ৮৭হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় একটি ক্লাবের মুক্তমঞ্চ তৈরিতে প্রায় ১০লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। হরিহরপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৭লক্ষ ৩৪হাজার টাকায় একটি শেড করে দেওয়া হয়েছে। বেশকিছু খেলার মাঠের পাঁচিল দেওয়া, পার্কের সৌন্দর্যায়ন, ছোটো ছোটো কংক্রিটের রাস্তা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে সেচপাম্প, টিউবওয়েলের ব্যবস্থা হয়েছে।
হরিহরপাড়ার বাসিন্দা মোস্তাকিম শেখ বলেন, আগে সেচের জলের সমস্যা ছিল। বিধায়ক টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করেছেন। বাজারে পাকা শেড করে দিয়েছেন। রাস্তা, পানীয় জলের সমস্যা মিটেছে। আমরা বিধায়কের কাজে খুশি।
বিরোধীরা অবশ্য উন্নয়নের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি মাহফুজ আলম ডালিম বলেন, জেলায় সর্বত্র উন্নয়ন হয়েছে বলে তৃণমূল ঢাক পেটাচ্ছে। কিন্তু এলাকায় গেলে বোঝা যায়, অনুন্নয়ন ছাড়া হরিহরপাড়ায় কিছুই হয়নি। এলাকায় মাটি পাচার থেকে শুরু করে নানা অসামাজিক কাজকর্ম হয়।
হরিহরপাড়ার বিজেপি প্রার্থী তন্ময় বিশ্বাস বলেন, কাজ না করে ভাঁওতাবাজি চলছে। হরিহরপাড়া-আমতলা রোডের দু’পাশে বড়ো বড়ো গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। কাটমানি শিল্প গড়ে উঠেছে। কেউ প্রতিবাদ করলে পুলিশকে দিয়ে হুমকি দিচ্ছে। ওদের প্রার্থী যাদের নিয়ে ঘুরছেন, তাদের বেশিরভাগই অসামাজিক কাজে যুক্ত।
বিদায়ি বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী নিয়ামত শেখ বলেন, উন্নয়নের কী কাজ হয়েছে, সেই তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে। আমার তহবিলে মাত্র ৩৫০টাকা পড়ে আছে। প্রতিশ্রুতিমতো বেশিরভাগ কাজ হয়ে গিয়েছে। কিছু কাজ চলছে। মানুষ প্রতি নির্বাচনে আমাদের কাজ দেখেই ভোট দেন।