Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাজির মাত্র ৭ জন, হল না ভরতপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠন

অধিকাংশ সদস্যই গরহাজির। তাই তৃণমূল পরিচালিত ভরতপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠন হল না। বৃহস্পতিবার ভরতপুর ১ বিডিও অফিসে ভরতপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠনের জন্য প্রশাসন দিন ঠিক করেছিল।

হাজির মাত্র ৭ জন, হল না ভরতপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠন
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: অধিকাংশ সদস্যই গরহাজির। তাই তৃণমূল পরিচালিত ভরতপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠন হল না। বৃহস্পতিবার ভরতপুর ১ বিডিও অফিসে ভরতপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতি গঠনের জন্য প্রশাসন দিন ঠিক করেছিল। তবে এদিন পঞ্চায়েত সমিতির ৩৬ জন সদস্যর মধ্যে হাজির হয়েছিলেন মাত্র সাতজন। হাজির হয়েছিলেন ভরতপুর বিধায়কও। ফলে সভায় কোরাম না হওয়ায় ভেস্তে যায় মিটিং। দলের ব্লক সভাপতি ঘনিষ্ঠরা কেউই ওই মিটিংয়ে হাজির ছিলেন না বলে অভিযোগ। এনিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরও অভিযোগ উঠছে। প্রসঙ্গত, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২৩ সদস্যের ওই পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল একাই ১৭টি আসন পেয়েছিল। অপরদিকে কংগ্রেস ৫টি ও ১টি আসন পেয়েছিল নির্দল প্রার্থী। তবে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনের সময় থেকেই তৃণমূলের অর্ন্তদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। তৃণমূলের একাংশ কংগ্রেস ও নির্দল প্রার্থীর সমর্থন নিয়ে বোর্ড গঠন করেছিল। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন সলমা সুলতানা। তবে বোর্ড গঠনের পরেও তৃণমূলের সদস্যদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে কয়েকজন বিরোধী দলের সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। এদিকে গত ১৫ জুলাই পঞ্চায়েত সমিতির সবকটি কর্মাধ্যক্ষর বিরুদ্ধেই অনাস্থা আনে তৃণমূলের ১৫ সদস্য। গত ৩০ জুলাই অনাস্থা ভোটে স্থায়ী সমিতিগুলি ভেঙে যায়। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফের নতুন করে এদিন স্থায়ী সমিতি গঠনের দিন ঠিক করা হয়।

Advertisement

সেই মতো এদিন বেলা ১২টা নাগাদ স্থায়ী সমিতি গঠনের জন্য সদস্যদের হাজিরার কথা ছিল। কিন্তু বেলা ১২টা বেজে গেলেও অধিকাংশ সদস্য সভাকক্ষে হাজির হননি। হাজির হয়েছিলেন মাত্র সাতজন সদস্য। তার মধ্যে ভরতপুর বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১২টা বেজে যাওয়ার পর সাত সদস্য বাইরে চলে আসেন। বিধায়ক হুমায়ুন সাহেব বলেন, সভায় কোরাম হতে গেলে ১৩ জন সদস্যর হাজির থাকা আবশ্যিক। তা না হওয়ায় মিটিং ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। আসলে দলের ব্লক সভাপতি অন্যান্য সদস্যদের আটকে রেখেছেন। উনি ওঁদের মিটিংয়ে আসতে দেননি। অথচ রাজ্য নেতৃত্ব আমার কাছে একটি তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছিল। যেখানে আমার ঘনিষ্ট পাঁচজনকে কর্মধ্যক্ষ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ব্লক সভাপতি এই নির্দেশ মানতে না চাওয়ায় অন্যান্য সদস্যদের সভায় হাজির হতে দেননি। এনিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে অভিযোগ জানান হয়েছে।
যদিও দলের ভরতপুর ১ ব্লক সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, আসলে বিধায়কের সঙ্গে যে সকল সদস্যরা গিয়েছিলেন তাঁর মধ্যে কংগ্রেসের তিন সদস্য ছিলেন। বিধায়কের দাবি অনুযায়ী পাঁচজনকে কর্মধ‌্যক্ষ করলে কংগ্রেস সদস্যদেরই করতে হতো। যে কারণে আমাদের সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে সভায় হাজির হননি। কাউকে জোর করে আটকে রাখা হয়নি। আর রাজ্য নেতৃত্বের দেওয়া বিধায়কের তালিকার দাবিও ভিত্তিহীন।
এদিকে এদিনের স্থায়ী সমিতি গঠন ঘিরে গোটা এলাকা পুলিসে ছয়লাপ হয়েছিল। কান্দি সালার রাজ্য সড়কের পাশে ভরতপুর ১ বিডিও অফিসে সাধারণের ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওই রাস্তার কয়েকটি জায়গায় পুলিস ব্যারিকড দিয়ে ঘিরে রেখেছিল। ঘটনাস্থলে হজির ছিলেন কান্দি এসডিপিও শাশ্রেক আম্বারদার। ওই বিডিও অফিস চত্বর থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে হাজারের বেশি তৃণমূল কর্মী সমর্থক হাজির হয়েছিলেন। এবিষয়ে ভরতপুর ১ বিডিও দাওয়া শেরপা বলেন, স্থায়ী সমিতি গঠনের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য হাজির না থাকায় সভার কোরাম হয়নি। আগামীতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘটনায় কান্দি মহকুমা কংগ্রেস সভাপতি নরত্তোম সিংহ বলেন, এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছাড়া কিছুই নয়। সরাসরি বিধায়ক ও দলের ব্লক সভাপতির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ