নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে মাওবাদী সন্ত্রাসের স্মৃতি এখন ফিকে। জেলাজুড়ে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। কিন্তু ওই সন্ত্রাসের জন্য ঝাড়গ্রাম ব্লকের মানিকপাড়া, চুবকা ও সরডিহা পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের যে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। মাওবাদী সন্ত্রাসের ভয়ে একসময় মানিকপাড়া, খালশিউলি হয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরগামী রাস্তায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দেড়দশক পার হওয়ার পরও সেই রাস্তায় বাস পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি। সারাদিনে মাত্র একটি বাস চলে। ফলে তিনটি পঞ্চায়েতের কয়েকহাজার মানুষ বহুদিন ধরে সমস্যায় ভুগছেন।
একসময় ঝাড়গ্রামের বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীদের ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল। হিংসার ভয়ে জঙ্গল লাগোয়া পথে যান চলাচল কমে গিয়েছিল। এখন আর সেই দিন নেই। জেলার বাকি পথে বাস ও অন্য গাড়ি চলাচল আগেই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মানিকপাড়া থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর যাওয়ার রাস্তায় দেড়দশকেও যাতায়াত সমস্যা মেটেনি। একসময় এই পথে সাত-আটটি বাস চলাচল করত। এখন সারাদিনে মাত্র একটি বাস চলে।
পূর্ত(সড়ক) দপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২১সালে মানিকপুর থেকে খালশিউলি পর্যন্ত ১০কিমি রাস্তা সংস্কার হয়েছিল। বাকি ২২ কিমি রাস্তাও যান চলাচলের উপযোগী। ঝকঝকে রাস্তা দিয়ে বাইক, পিকআপ ভ্যান, টোটো চলছে। কিন্তু ওই একটি ছাড়া বাসের দেখা মেলে না।
সরডিহা পঞ্চায়েতের বাসিন্দা পার্থ ভকত বলেন, দেড়দশক আগেও এই পথে সাত-আটটি বাস চলত। মাওবাদী সন্ত্রাসের জেরে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখনও পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি। মানিকপাড়া থেকে সকাল ৭টা ৫০মিনিটে একটি বেসরকারি বাস ছাড়ে। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে দুপুর ১টার সময় বাসটি ফিরে আসে। একটিমাত্র বাসের উপর এলাকার মানুষ নির্ভরশীল।
মানিকপাড়ার বাসিন্দা তপন মিত্র বলেন, তিনটি পঞ্চায়েতের কয়েকহাজার মানুষের জন্য আরও বাস দেওয়া দরকার। আমরা চাই, জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। মানিকপাড়া পঞ্চায়েতের প্রধান শত্রুঘ্ন মাহাত বলেন, রাস্তা সংস্কার হলেও অজ্ঞাত কারণে এই রুটে বাস পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এজন্য আমাদেরও প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সরডিহা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রবীন্দ্রনাথ মাহাত বলেন, এলাকার ১২-১৩টি গ্ৰামের মানুষ ওই একটি বাসের উপর নির্ভরশীল। স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের বেশি সমস্যা হয়। খুব প্রয়োজন পড়লে গাড়ি ভাড়া করে যেতে হয়।
ঝাড়গ্রাম জেলা বাস পরিবহণ তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হরিশঙ্কর মাহাত বলেন, অশান্তির সময় যাত্রীসংখ্যা কমে গিয়েছিল। এছাড়া, নানা কারণে ওই রুটে বেশিরভাগ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই রুটে বাস চালানোর জন্য আর আবেদন জমা পড়েনি।