Bartaman Logo
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অনলাইন লটারির টিকিটে প্রতারণার ফাঁদ, ডানকুনিতে গ্রেপ্তার বিহারের পাঁচ বাসিন্দা, ব্যবহার করা হত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

অনলাইনে লটারির টিকিট বাছাইয়ের সুযোগ। তারপরেই পুরস্কার জেতার সংবাদ। সেই টাকা দাবি করলে জিএসটি সহ নানা জটিলতার বাহানা।

অনলাইন লটারির টিকিটে প্রতারণার ফাঁদ, ডানকুনিতে গ্রেপ্তার বিহারের পাঁচ বাসিন্দা, ব্যবহার করা হত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: অনলাইনে লটারির টিকিট বাছাইয়ের সুযোগ। তারপরেই পুরস্কার জেতার সংবাদ। সেই টাকা দাবি করলে জিএসটি সহ নানা জটিলতার বাহানা। এরপর ওই টাকা পাওয়ার জন্য প্রসেসিং ফি-এর নাম করে দফায় দফায় টাকা নিত জালিয়াতরা। শেষমেশ তাদের হোয়াটসঅ্যাপ বা ফোন নম্বরে আর যোগাযোগ করা যেত না। এভাবেই লটারি টিকিট নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল বিহারের একদল সাইবার জালিয়াত। হুগলির ডানকুনিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রতারণার কারবার ফেঁদে বসেছিল তারা। চন্দননগরের সাইবার ক্রাইম থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা কারবারই চলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর মাধ্যমে। যা বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Advertisement

দিনকয়েক আগে ডানকুনিতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল গোয়েন্দা ও সাইবার ক্রাইম শাখার পুলিশ। এনিয়ে চন্দননগর কমিশনারেটের ডিসি রূপান্তর সেনগুপ্ত বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে নকল লটারির টিকিট তৈরি করত তারা। সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করে সেগুলি পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হত গ্রাহকদের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়েই নির্ধারণ করা হতো বিজয়ী। তারপরেই শুরু হত প্রতারণা। ওই ঘটনার তদন্তে বেশ কিছু মোবাইল ফোন, ব্যাংকের নথি, ল্যাপটপ ও অন্যান্য নথি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সাইবার থানার পুলিশ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় পোর্টালে ও অন্যান্যভাবে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে হটস্পট চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। কিছুদিন আগেই সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ অন্য একটি প্রতারণা মামলায় ২০ জনের একটি দলকে গ্রেপ্তার করেছিল। উচ্চ শিক্ষিত, আইটি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে আসা সেই যুবকদের কাণ্ড পুলিশ মহলে বিস্ময় তৈরি করেছিল। 
কীভাবে ফাঁদ পাতা হত? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রীতিমতো তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কাকে প্রতারণা করা হবে, তা চিহ্নিত করা হত। তারপর সমাজমাধ্যমে লটারির বিজ্ঞাপন দিত তারা। সুষ্ঠু পরিকল্পনার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাধ্য হতেন লটারির টিকিট কিনতে। এরপর তাঁকে ভুয়ো বিজয়ী হিসাবে দেখিয়ে নানা কায়দায় দফায় দফায় টাকা নেওয়া হত। এব্যাপারেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নকল নথি তৈরি করে বিশ্বাস অর্জন করা হত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্ত টাকাই লেনদেন হত বিহারের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে। প্রতারকদের নথি থেকে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রতারণার হদিশ মিলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ