অনলাইনে মাদক কারবার, এনসিবির জালে ধরা পড়ল গার্ডেনরিচের তরুণ
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় বসে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে আমেরিকা থেকে অনলাইনে মাদক নিয়ে এসে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিদেশ থেকে এই মাদক অনলাইনে সরাসরি পৌঁছে যেত বিভিন্ন পার্টি অ্যারেঞ্জারদের কাছে। নিষিদ্ধ মাদক কারবারের অভিযোগে মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা আব্দুল মুতালিবকে গার্ডেনরিচ এলাকা থেকে শনিবার গ্রেপ্তার করল নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিদের যোগ মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। কারা কারা তার ‘ক্লায়েন্ট’ ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

এনসিবির কাছে খবর আসছিল, কলকাতায় বসে এক তরুণ মাদকের কারবার চালাচ্ছে। অনলাইনে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা। কিন্তু তাকে চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না। কয়েকদিন আগে তারা জানতে পারে মেটিয়াবুরুজ এলাকার এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে টাকা আসছে। এমনকি ভিন রাজ্য থেকেও মোটা টাকা ঢুকছে নিয়মিত। আবার কলকাতা থেকে বিদেশে টাকা যাচ্ছে। ওই অ্যাকাউন্টই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হয়ে দাঁড়ায়। তার তথ্য বিশ্লেষণ করেই আব্দুলের নাম জানতে পারে এনসিবি। কিন্তু সেই টাকা যে মাদক ব্যবসার, তা নিশ্চিত হতে পারছিলেন না তদন্তকারীরা। সেই কারণে পার্সেল মনিটারিং শুরু হয়। পাশাপাশি তার ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টের খোঁজ শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তা করতে গিয়ে আমেরিকায় মাদক কারবারি ও ক্রেতাদের নাম পায় এনসিবি। এরপরই শনিবার রাতে আব্দুলকে গার্ডেনরিচ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনসিবি তাকে জেরা করে জানতে পারে, ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে তার সঙ্গে আমেরিকায়  মাদক মাফিয়াদের পরিচয় হয়। এরপর সে অনলাইনে মাদক কারবার শুরু করে। বিটকয়েনের মাধ্যমে মাদকের দাম মেটানো হতো। টর ব্রাউজার ব্যবহার করে সে যোগাযোগ রাখত আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিদের সঙ্গে। এরপর  স্ন্যাপচ্যাটের মতো এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করে একটি গ্রুপ খোলে। সেখানে কলকাতা সহ বিভিন্ন রাজ্যের মাদক কারবারিরা ছিল। যারা মূলত পার্টি ড্রাগ সরবরাহ করে।  তবে মাদক পাঠানোর জন্য ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ সরাসরি যোগাযোগ করত না। আব্দুল জেরায় জানিয়েছে, মাদক সরাসরি তার কাছেও আসত না। অর্ডার মতো ক্রেতাদের ঠিকানা আমেরিকার ড্রাগ মাফিয়াদের কাছে পাঠিয়ে দিত। এরপর সেখান থেকে পার্সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা মাদক কারবারিদের কাছে পৌঁছে যেত। আমেরিকা থেকে আসা পার্সেলে লেখা থাকত ওষুধ বা গিফট আইটেম পাঠানো হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যের মাদক কারবারিরা পেমেন্ট মেটাত ই -ওয়ালেটের মাধ্যমে।