সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: অনলাইন গেমের প্রভাব এবং প্রবণতা বাড়ছে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে। একধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা। অনলাইন গেমের আড়ালে সন্তানরা জুয়া খেলায় জড়িয়ে পড়ায় চিন্তিত অভিভাবকরা। সম্প্রতি ধূপগুড়ির খট্টিমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে সাইকেল চুরির ঘটনার পর এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
Advertisement
ধূপগুড়ি খট্টিমারী স্কুল থেকে প্রায়ই পড়ুয়াদের সাইকেল চুরি হচ্ছিল। কয়েকদিন আগে শৌচাগারের গেট ভেঙে স্কুল ঘরে রাখা সবুজ সাথীর ৯টি সাইকেল চুরি যায়। বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত নামে পুলিস। পরবর্তীতে জানা যায়, স্কুলেরই কয়েকজন পড়ুয়া এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিস তাদের আটক করে জেরা শুরু করলে উঠে আসে সাইকেল চুরির ঘটনার রহস্য। স্কুল সূত্রে খবর, ৭-৮জন পড়ুয়ার একটি গ্যাং এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। তারা প্রতিদিন অনলাইনে বিভিন্ন গেমের মাধ্যমে জুয়া খেলে। সেই জুয়ার টাকা জোগাতে তারা স্কুলের সাইকেল চুরি করেছে। এমনকি এই সমস্ত সাইকেল খুব কম টাকার বিনিময়ে তারা বিক্রি করে দেয়। শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগেও স্কুল পড়ুয়াদের সাইকেল চুরির ঘটনায় তারা জড়িত থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ রায় বলেন, পড়ুয়াদের সাইকেল হারিয়ে যাওয়ার মত ঘটনা প্রায় ঘটছিল। এর মধ্যে সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল চুরি যায়। এই ঘটনার পিছনে স্কুল পড়ুয়াদের একটি গ্যাংয়ের হাত খুঁজে পাওয়া যায়। তারা স্বীকার করেছে, অনলাইন গেমে জুয়া খেলার টাকা জোগাতে তারা সাইকেল চুরি করেছে। তবে পড়ুয়ারা যে গেমের টাকা জোগাতে চুরির প্রতি আসক্ত হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তিত প্রধান শিক্ষকও। অপরদিকে, স্থানীয়রা এলাকার ছোটখাটো চুরির ঘটনার পিছনে এই অনলাইন জুয়াকেই দায়ী করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল হরিজন বলেন, ক’মাসে এলাকায় ছোটখাটো চুরির ঘটনা বেড়েছে। এর পিছনেও এই অনলাইন জুয়া দায়ী। রাত হলেই বিভিন্ন জায়গায় কিশোররা জটলা বেঁধে অনলাইনে জুয়া খেলে।



