Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনলাইন গেমের জেরেই কি স্কুলছাত্রের মৃত্যু, তদন্তে পুলিস

অনলাইন গেমের জেরেই কি স্কুলছাত্রের মৃত্যু, তদন্তে পুলিস
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিবেকানন্দ কলেজ মোড় এলাকায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের আত্মঘাতী হওয়ার পিছনে কি রয়েছে অনলাইন গেম? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। ওই ছাত্রের ঘরের থেকে পুলিস একটি ট্যাব উদ্ধার করেছে। মৃতের পরিজনরা বলেন, ওই ছাত্রের ঘরের দরজা ভিতর থেকে লাগানো ছিল। সে বাথরুমের কাছে একটি হ্যাঙারে গলায় গামছা জড়িয়ে আত্মহত্যা করে। মৃতের দুই হাঁটু মাটির সঙ্গে ঠেকে ছিল। তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ হরপ্রসাদ সিংহ বলেন, দরজা বাইরে থেকে বন্ধ থাকায় জানলা খোলার চেষ্টা করি। পরে দরজায় ধাক্কা দিতে তা খুলে যায়। ওই ছাত্রকে ঘরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। তাদেরই আত্মীয় এক চিকিৎসক এসে দেখেন, সে মারা গিয়েছে। 
Advertisement
ছাত্রটি শহরের এক নামী ইংরেজি মধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করত। তার বাবা এবং মা দু’জনেই শিক্ষকতা করেন। ছেলের মৃত্যুর পর তাঁরা কথা বলার অবস্থা নেই। হরপ্রসাদবাবু বলেন, ওই ছাত্রর কাছে একটি ট্যাব থাকত। সেটা ভালোভাবে পরীক্ষা করা দরকার। কোনও আত্মঘাতী গেমে আসক্ত হয়ে সে এই পথ বেছে নিতে পারে। বাবা-মায়ের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। কেউ বকাবকি করেনি। তারপরও তার আত্মহত্যা করার বিষয়টি যথেষ্ট সন্দেহজনক। 
পুলিস জানিয়েছে, রবিবার রাতে ওই ছাত্রর মৃত্যু হয়। আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ঝুলন্ত অবস্থা দেখা যায়। তার আগে ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ সে অঙ্কের টিচারকে ফোন করে। তখনও সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিল। সে যে ট্যাবটি ব্যবহার করত সেটি খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। সোমবারও বিবেকানন্দ কলেজমোড়ের অভিজাত ওই আবাসনে পুলিস গিয়েছিল। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছে। ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছে।
ওই ছাত্রর পরিচিতরা বলেন, সে অত্যন্ত মেধাবী ছিল। সবার সঙ্গে মিশত। তার মৃত্যুর পর সহপঠীরাও শোকে মূহ্যমান। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, এখনও আত্মঘাতী গেমের বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।  এক শিক্ষক বলেন, এখন বহু পড়ুয়া গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তারা কি নিয়ে খেলা করছে, সেটা জানতেও পারে না। নিজের অজান্তেই অন্ধকারে ডুবে যায়।
সম্পর্কিত সংবাদ