সংবাদদাতা, কালনা: বহুদিনের দাবি মেনে পূর্বস্থলী-১ ব্লকের নিমতলা কিষাণ মাণ্ডিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণকেন্দ্র চালু হল। প্রায় ২০ লক্ষ টাকায় গড়ে তোলা এই কেন্দ্রে ৪০মেট্রিক টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে। বৃহস্পতিবার এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এটি উদ্বোধন করেন। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই কেন্দ্রে পেঁয়াজ রাখতে পেরে খুশি কৃষকরা।
কালনা মহকুমার কালনা ১ ও ২ এবং পূর্বস্থলী ১ ও ২ ব্লকে সাড়ে চারহাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। এবার পেঁয়াজের ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি দামও ঊর্ধ্বমুখী। এক বিঘা জমিতে ৮০-৯০বস্তা ফলন হয়েছে। কয়েকবছর ধরে কৃষিজ বিপণন দপ্তরের তরফে বাড়িতে বা খামারে ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনশোর বেশি কৃষক সুবিধা পেয়েছেন। নতুন করে আরও ১১২জন চাষিকে সরকারি ভর্তুকিতে ঘরোয়া পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে সম্পূর্ণ সরকারি উদ্যোগে এই প্রথম কালনা-২ ও পূর্বস্থলী-১ ব্লকের কিষাণ মাণ্ডিতে দু’টি ৪০ মেট্রিক টনের পেঁয়াজ সংরক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের নিমতলা কিষাণ মাণ্ডিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণকেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
বকপুরের পেঁয়াজ চাষি অশোক দাস নিমতলার ওই সংরক্ষণকেন্দ্রে ৬০ বস্তা পেঁয়াজ রেখেছেন। তিনি বলেন, ফসল সংরক্ষণ করতে পেরে চিন্তামুক্ত হলাম। আরও বহু চাষি বৃহস্পতিবার সেখানে পেঁয়াজ এনে রেখেছেন।
মন্ত্রী বলেন, পূর্বস্থলী-১ ব্লকে কৃষির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। চাষিদের উৎপাদিত ফসল বিক্রির জন্য কিষাণ মাণ্ডি গড়ে উঠেছে। ধান, পাট, পেঁয়াজ ও অন্য সব্জির পাশাপাশি অনেকেই বিকল্প হিসেবে পেয়ারা, লেবু, কুল এবং ফুল চাষ করছেন। ব্লকে প্রচুর পেঁয়াজ চাষ হয়। এতদিন এলাকায় সংরক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় পেঁয়াজ চাষিরা সমস্যায় পড়ছিলেন। অবশ্য সরকার ঘরোয়া পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিকাঠামো গড়তে ৬২হাজার টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এবার সরকারিভাবে নিমতলা কিষাণ মাণ্ডিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। ফলে বহু চাষি সময় বুঝে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পেরে লাভবান হবেন। এর জন্য আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। আগামী দিনে এলাকায় একটি বহুমুখী হিমঘর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।