Bartaman Logo
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দামের ঝাঁঝে নাজেহাল, জেলায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে পেঁয়াজ চাষে

বর্ষার মরশুমে এবার পেঁয়াজের দামের ঝাঁঝে নাজেহাল হচ্ছেন মধ্যবিত্তরা

দামের ঝাঁঝে নাজেহাল, জেলায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে পেঁয়াজ চাষে
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর : বর্ষার মরশুমে এবার পেঁয়াজের দামের ঝাঁঝে নাজেহাল হচ্ছেন মধ্যবিত্তরা। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কেজি প্রতি ১৫ টাকা থেকে পেঁয়াজের দাম বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৬০ টাকায়। আচমকা এই মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের টাস্ক ফোর্স বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালালেও পেঁয়াজের দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।

Advertisement

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন বাজারে টাস্ক ফোর্সের অভিযান এবং পাইকারি বাজারে নজরদারি চললেও তার সুফল মিলছে না বলেই অভিযোগ উঠেছে। বুনিয়াদপুর কিষানমান্ডির পাইকারি ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বাজারে মূলত দুধরনের পেঁয়াজ রয়েছে। ছোট আকারের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি প্রায় ৪০ টাকা ও বড় আকারের পেঁয়াজ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরো বাজারে সেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাঁড়াচ্ছে যথাক্রমে ৫৫ ও ৬০ টাকা কেজি।
সামনেই পুজোর মরশুম। ফলে উৎসবের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা আরও বাড়লে দাম নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বর্তমানে পেঁয়াজের চাহিদা যথেষ্ট রয়েছে। পুজোর সময়ে সেই চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলার পেঁয়াজের চাহিদার বড় অংশই পূরণ হয় নাসিক এবং গুজরাতের গণ্ডক এলাকার পেঁয়াজের মাধ্যমে। দক্ষিণ দিনাজপুরে সামান্য পরিমাণে শীতকালীন পেঁয়াজ চাষ হলেও বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষ কার্যত নেই বললেই চলে। সেই কারণে বাইরের রাজ্যের উৎপাদনের উপরেই জেলার বাজার অনেকটাই নির্ভরশীল।
তবে স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে এবার উদ্যোগী হয়েছে জেলা উদ্যান পালন দফতর। সরকারি সহায়তায় বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে জেলায় ২০ হেক্টর জমিতে ইচ্ছুক চাষিদের সরকারি সহযোগিতায় বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে জেলার নিজস্ব উৎপাদন বাড়িয়ে বাইরের রাজ্যের উপর নির্ভরতা কমানোই দফতরের অন্যতম লক্ষ্য।
অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি থেকে খুচরো বাজার দুই স্তরেই পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। শহরের বাজারগুলিতে টাস্ক ফোর্স অভিযান চালালেও ব্লক সদর ও গ্রামীণ বাজারগুলিতে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় দামের তারতম্য আরও প্রকট হচ্ছে। ফলে একই জেলার বিভিন্ন বাজারে ভিন্ন দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বুনিয়াদপুরের পাইকারি ব্যবসায়ী কমল সরকার বলেন, গুজরাতের গণ্ডক এলাকা থেকে বর্ষাকালীন পেঁয়াজ আসে। এবার সেখানে উৎপাদনে ধাক্কা লাগায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে নাসিকের পেঁয়াজের জোগানেও টান থাকে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম হলে দাম বাড়ে। গত কয়েক বছর পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। পুজোর মরশুমে চাহিদা বাড়লে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি।
জেলা উদ্যান পালন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে জেলায় বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে ইচ্ছুক কৃষকদের সরকারি সহায়তায় চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগামী দিনে জেলায় বর্ষাকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করাই আমাদের লক্ষ্য। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ