Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তিন ভাগের এক ভাগ অপঘাতে মৃত্যুর কারণ গলায় দড়ি, বেশিরভাগই মহিলা

প্রতি তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে একটির নেপথ্যেই রয়েছে গলায় দড়ি বা হ্যাঙ্গিং। ক্যারোটিড ধমনীতে প্রবল চাপ

তিন ভাগের এক ভাগ অপঘাতে মৃত্যুর কারণ গলায় দড়ি, বেশিরভাগই মহিলা
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: প্রতি তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে একটির নেপথ্যেই রয়েছে গলায় দড়ি বা হ্যাঙ্গিং। ক্যারোটিড ধমনীতে প্রবল চাপ। মাত্র ১০ সেকেন্ডেই সব শেষ! কাঁটাপুকুর পুলিশ মর্গ সূত্রে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ময়নাতদন্তের সংখ্যার নিরিখে রাজ্যের দ্বিতীয় বড়ো পুলিশ মর্গ এটি। ২০২৫ সালে রাজ্যের অন্যতম বড়ো এই মর্গে ৩১০০টি দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছিল। এক মধ্যে ৯২৭টিই গলায় দড়ি দেওয়ার ঘটনা। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের সূত্রে খবর, মৃতদের বয়সসীমা কমবেশি ১৫ থেকে  ৫০-এর মধ্যে। তবে তালিকায় ৭ বছরের এক বালক এবং ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধও আছেন। গলায় দড়ি দিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের মধ্যে। 

Advertisement

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে অসুখ-বিসুখে মৃত্যু। হার্টের অসুখ এবং স্ট্রোক—এই দু’টি সমস্যায় প্রায় ৬৫০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হার্টের অসুখের মধ্যে এমআই বা হার্ট অ্যাটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশনে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বেশিরভাগ। হার্ট বার্স্ট করে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানালেন,  ৪০-৫০ বছর বয়সের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছেন। বিষপানেও কম মৃত্যু হয়নি। অর্গানো ফসফরাস এবং অর্গানো ক্লোরিনস, এই দুই ধরনের বিষপানে প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছিল ফুলের বীজ খেয়ে এক কিশোরীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনা। খুন না আত্মহত্যা, তা নিয়ে তোলপাড় পড়েছিল সে ঘটনায়। শরীরের কিছু জায়গায় রক্ত জমায় মেয়েটিকে শারীরিক নিগ্রহ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, মৃত্যুর কারণ ‘ভেজিটেবল পয়জেনিং’। ফুলের বিষাক্ত বীজ খেয়ে মৃত্যু! চোট-আঘাতে চারশোর বেশি ও পথ দুর্ঘটনায় আড়াইশোর বেশি মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ৪২ খুন, তিনশোর বেশি অগ্নিদগ্ধ হয়ে, সর্পাঘাতে ৩০ জন এবং বাঘের কামড়ে ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনা রয়েছে। 
বিশিষ্ট মনোবিদ ডঃ অমিত চক্রবর্তী ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দিলীপ মণ্ডল বলেন, ‘গলায় দড়ি দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অর্থ সমাজে অবসাদ আরও বাড়ছে। আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে, নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে আত্মহনন বাড়ছে। কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীদের বোঝাতে হবে, মোবাইল, বাইক হোক বা গাড়ি, সহজ সত্যি হল, নিজেকে শেষ করে সেই জিনিসটা তো আর পাওয়া যাবে না! বাবা মায়েদের বলব, টিন এজারদের সঙ্গে কথা বলুন মানসিকভাবে ওদের বয়সে গিয়ে। যারাই আত্মহনন করে, কথাবার্তা, লেখা, আচরণে তার গন্ধ, পূর্ব ইঙ্গিত মেলে। তাই আগে থেকে সাবধান হন। কথা বললেই সমস্যার সমাধান হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ