নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের ‘স্বচ্ছ’ ভোটার তালিকা প্রস্ততিতে ধরা পড়ল বিস্ফোরক ত্রুটি! একই বুথে একজন ব্যাক্তির ভোটার তালিকায় চার জায়গায় নাম। ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখা গিয়েছে চারটি নামের পাশে চারটি পৃথক এপিক নম্বর। ওই ভোটারের নাম ও বাবার নাম, বয়স একই থাকলেও চার জায়গায় দু’টি ভিন্ন ছবি ধরা পড়েছে। তৃণমূল ও কংগ্রেসের সরাসরি অভিযোগ, বিজেপির নির্দেশে ভোট চুরির জন্যই এই ‘ত্রুটি’ রেখেছে কমিশন। রাজ্যের বিদায়ী শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায় শিল্পাঞ্চলে। আসানসোলের এসডিও অঘোরকুমার রায় বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
এবার নির্বাচনে প্রথম থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসানসোল বিধানসভা। তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা মলয় ঘটক এই আসনের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রেই এই ছবি ধরা পড়েছে। ২৮১ নম্বর আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৭১ নম্বর পার্টের এই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে এদিন। তালিকায় দেখা যাচ্ছে রবি চৌধুরী পিতা ঈশ্বর দয়াল চৌধুরী আসানসোল পুরসভার ৭৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই মানুষটির ভোটার তালিকা অনুযায়ী বয়স ৪৫। তালিকায় তাঁর নামের পাশে এপিক নম্বর ‘এওজে ৩০৩৫৬১৫’। ওই ভোটার তালিকায় ঠিক নিচেও তাঁরই নাম রয়েছে। সেখানে বাবার নাম, ঠিকানা, বয়স সব এক। ছবিটি ভিন্ন হলেও দেখেই বোঝা যাচ্ছে দুটি ছবিই একই ব্যক্তির। সেখানে এপিক কার্ড নম্বর ‘এওজে৩০৬৪৭১৪’, তালিকার ডান পাশের ঘরে ভোটার হিসাবে আবার রবি চৌধুরীর নাম। নাম, ঠিকানা এমনকী দ্বিতীয় ছবির সঙ্গে তৃতীয় নামের পাশের ছবিটিও এক। পার্থক্য শুধু এপিক নম্বরে। এক্ষেত্রে রবি চৌধুরীর পাশে থাকা এপিক নম্বরটি হল ‘এওজে ৩০৬৫১৩৩’। রবি চৌধুরীর নামে চতুর্থ বার থাকা ভোটার তালিকায় তাঁর এপিক নম্বর ‘এওজে ৩০৬৬৩৭০’।
শুধু রবি চৌধুরী নয় ওই একই পার্টে ১৭১ নম্বরে আয়ুস কুমার সিংয়ের দু’টি পৃথক এপিক নম্বর তালিকায় রয়েছে। নাম, ঠিকানা, ভোটারের ছবি সব এক তালিকায় দু’জায়গায় রয়েছে তাঁর। আয়ুস কুমার সিংহের দু’টি এপিক নম্বর যথাক্রমে ‘এওজে৩০৭৪০১০’ ও ‘এওজে ৩০৭৪০৩৬’।
১৭১ পার্টেই যদি এই বিশাল ত্রুটি সামনে আসে তাহলে কী ভাবে স্বচ্ছ নির্বাচন হবে বলে প্রশ্ন তুলছেন ওই বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতণ্ডি। তিনি বলেন, আমাদের নেতা রাহুল গান্ধী আগেই দেশের সামনে ভোটচুরির তথ্য সামনে এনেছেন। বাংলার ক্ষেত্রে আমরা নির্বাচনের আগেই কমিশনের ভোট চুরি ধরে ফেলেছি। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহকে খুশি করতে তাঁদের পছন্দে ভোটারদের একাধিক এপিক নম্বর দিয়ে তালিকায় নাম ঢোকানো হচ্ছে। যাতে ওই সব ব্যক্তিরা একাধিক বার ভোট দিতে পারেন। এই আসনের তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক দুঁদে আইনজীবী। দীর্ঘ সময় রাজ্যের আইনমন্ত্রী ছিলেন। তিনি কড়া চিঠি দিয়েছেন কমিশনের অধীনে থাকা এই বিধানসভা কেন্দ্রের রির্টানিং অফিসার তথা আসানসোলের মহকুমা শাসক অঘোরকুমার রায়কে। মলয়বাবুর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মেশিনারিকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার ঢোকানো হচ্ছে সঠিক ভোটারদের বাদ দিয়ে। ফর্ম ৬ মাধ্যমে দু’নম্বর সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দেখা যাচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ত্রুটি। তারপরই একজন ব্যক্তির নামে চারটি এপিক নম্বর ও একজন ভোটারের নামে দুটি এপিক নম্বর একই বুথে পাওয়া যাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এরপরই তিনি ১৭১ নম্বর পার্টে ফিজিক্যাল ইনকোয়ারির দাবি জানান।
এনিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, রাজ্য সরকারের কর্মীদের নিয়েই নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। কার ত্রুটিতে এমন হয়েছে খুঁজে বের করা হোক।