সংবাদদাতা, কান্দি: একজনের জমির রেকর্ড অন্যের নামে। তার সংশোধন অথবা জমি সংক্রান্ত যে কোনও কাজ সারতে হলে পড়তে হচ্ছে দালালদের পাল্লায়। অভিযোগ, বহুদিন ধরে এমন অবস্থা চলে আসছে ভরতপুর বিএলএলআরও অফিসে। বৃহস্পতিবারও ফের একই ঘটনার জেরে সেখানে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অফিস চত্বরে দুই পক্ষের বিবাদের সময় সংবাদ সংগ্রহেও বাধা দেন দালালরা। পরে সেখানে ভরতপুর থানার পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভরতপুর ১ বিডিও অফিস চত্বরেই রয়েছে ওই অফিস। অফিসে ঢোকার আগে মাদুর পেতে বসে আছেন প্রায় ৫০ জন মুহুরি নামক দালাল। তাঁদের কারও কারও মুহুরি রেজিস্ট্রেশন থাকলেও অনেকের সেসব কিছুই নেই বলে জানা যায়। কেউ আবার শুধুমাত্র গায়ের জোরেই কাজ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এমন অবস্থায় সাধারণ বাসিন্দা জমি সংক্রান্ত সমস্যায় পড়লে সরাসরি অফিসে কাজ সারতে পারেন না। স্থানীয় করন্দি গ্রামের বাসিন্দা ভাদু শেখ বলেন, নিজে বহু চেষ্টা করেও আমার জমির রেকর্ড করতে পারিনি। দালাল ধরতেই হয়ে গেল। গয়েশাবাদ গ্রামের বাসিন্দা সর্বেশ্বর সাহা বলেন, এই দপ্তরের অনলাইন অ্যাপে চোখ না রাখলে খুব সমস্যা। নিজের জমি যে কোনও সময় অন্যের নামে হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যার কারণে একবছর ধরে হন্যে হয়ে ঘুরছি। দালালরা টাকা নিয়েও কাজ করছে না। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই অফিসে জমি সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে গেলে দালালদের খপ্পরে পড়া ছাড়া কোনও উপায় তাঁদের নেই। সাধারণ মানুষ হিসেবে সরাসরি এই অফিসে কাজ সারতে পারেন না। এমনকী সাহস করে অফিসে গেলেও দালালরা হাত থেকে কাগজ ছিনিয়ে নেন। মাসের পর মাস এভাবেই এই অফিসে দালালরাজ চলছে।
এদিন এমনই ফের এক ঘটনায় অফিসের সামনেই দুই পক্ষ ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। বিনোদিয়া গ্রামের এক মহিলা বলেন, আমরা একজনের জমি কেনার পর রেকর্ড করেছি। কিন্তু অপরপক্ষ বলছেন, সেই জমি নাকি তাঁদের। যদিও ভরতপুরের বাসিন্দা রাইহান শেখ বলেন, জমি বিক্রির কোনও ব্যাপারই নেই। ওই মহিলা যে জমি কেনার কথা বলছেন, সেটির রেকর্ড আমার নামে ছিল। আসলে এই অফিস থেকে জাল দলিল করে একজনের জমি অন্যের নামে হয়ে যাচ্ছে।
এনিয়ে এদিন বেলা ১টা নাগাদ ওই অফিসের সামনে দুই পক্ষ ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা সেখানে খবর সংগ্রহ করতে গেলে তাঁদের উপর চড়াও হয় কাঞ্চন শেখ নামে এক ‘দালাল’। অতর্কিতে সে সংবাদ মাধ্যমের এক কর্মীর উপর চড়াও হয়ে ধাক্কা দিতে থাকে। মোবাইল কেড়ে নেয়। পরে সেখানে ভরতপুর থানার ওসি শিবনাথ মণ্ডল পুলিস নিয়ে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই দালালের নামে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিএলএলআরও-র কাছে। বিএলএলআরও আনন্দ মোহন মাইতি বলেন, অফিস চত্বরে দালালরাজ ব্যাপারটি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ মাধ্যমের উপর হামলার ব্যাপারটি পুলিস ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।