সংবাদদাতা, কল্যাণী: গর্ভে জমজ সন্তান ছিল। প্রেগন্যান্সির ছ’ মাসের মাথায় মায়ের গর্ভেই মৃত্যু হয় একজনের। দ্বিতীয় সন্তান অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে ওঠে। তার চাপে জরায়ুতেই কাগজের মতো পাতলা ও সরু হয়ে যায় মৃত ভ্রূণটি। এই ঘটনাকে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘পেপার ফিটাস’ বা ‘ফিটাল পাপায়রাসিয়োস’ বলে। প্রতি এক লক্ষে এমন একটি ঘটনা ঘটে। সিজারের করে জীবিত সন্তানকে যেমন ভূমিষ্ঠ করা হয়েছে, তেমনই বের করা হয়েছে মৃত ভ্রূণটিও। বর্তমানে ওই কন্যাসন্তান ও তার মা সুস্থ রয়েছেন। কল্যাণী কলেজ অব মেডিসিন অ্যান্ড জেএনএম হাসপাতালে ঘটনা ঘটেছে।
মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে প্রিয়াঙ্কা ঘোষ নামে এক রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। তিনি বিএসএফের জওয়ান। বাড়ি নবদ্বীপের মায়াপুরে। ভর্তির সময় তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ছিল এবং গর্ভস্থ সন্তানের শরীরে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ না হওয়ায় তার বৃদ্ধি ঠিকমতো হয়নি। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানতে পারেন, রক্তপ্রবাহে ত্রুটি থাকায় যমজের মধ্যে একটি গর্ভেই মারা যায়। সেই মৃত বাচ্চার জন্যই জীবিতের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছিল এবং মায়ের রক্তচাপ বাড়ছিল। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই ডাঃ মৈনাক নাথের নেতৃত্বে সাতজনের এক চিকিৎসক দল সিজার করেন মহিলার। অপারেশনের সময় দেখা যায়, জরায়ুতে কাগজের মতো হয়ে আটকে রয়েছে মৃত সন্তানের ভ্রূণ। অপারেশনটি হয়েছে গত রবিবার। তারপর মাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা করার পর তিনি এবং সন্তান দু’জনেই এখন সুস্থ।
ডাঃ মৈনাক নাথের কথায়, মায়ের গর্ভে যমজ সন্তান থাকলে কালভদ্রে এমন ঘটনা ঘটে। যে ভ্রূণের মৃত্যু হয়েছে, সেটি মায়ের জরায়ুতেই পাচিত হতে থাকে। ফলে অন্য সন্তানের ক্ষতি বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এমনকী, বিষক্রিয়ার ফলে মায়েরও প্রাণ সংশয় হতে পারে। সেক্ষেত্রে অত্যধিক রক্তচাপ, সংক্রমণ, লিভার, কিডনি ইত্যাদির সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রিয়াঙ্কাদেবীর ক্ষেত্রেও এমন সমস্যা দেখা দিয়েছিল। দ্রুত চিকিৎসা ও সঠিক সময়ে অপারেশনের সিদ্ধান্তই মুশকিল আসান করেছে। মা ও মেয়ে এখন ভালো আছে। এমন ঘটনা শুধু নদীয়া জেলায় নয়, গোটা রাজ্যেই বিরল।